ঢাকা ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
নতুন নির্বাচিত এমপিদেরকে সাবেক স্পিকারের শপথ পড়ানোর সুযোগ নেই: আইন উপদেষ্টা এবার আইয়ুব বাচ্চু ও ববিতাসহ ১০ জন পাচ্ছেন একুশে পদক ঢাকায় তারেক রহমানের জনসভা রোববার রাষ্ট্রপতির কাছে পে-কমিশন চেয়ারম্যানের প্রতিবেদন পেশ ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে আটক -১ পল্লবীতে দুই শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার শিশু আয়ানের মৃত্যু: দুই বছর পর অবশেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল দুর্নীতিবাজদের গলায় হাত দিয়ে লুটের টাকা উদ্ধার করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান ভোটের দিন মেট্রোরেল চলবে নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্ট করলেন উপ-প্রেস সচিব

সরকার মানবাধিকার রক্ষায় মাইলফলক স্থাপন করতে চায়: আসিফ নজরুল

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  2:10 PM

news image

অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার রক্ষায় একটি মাইলফলক স্থাপন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। আজ শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে অবস্থিত বেওয়াচ হোটেলের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০০৯ নিয়ে পরামর্শক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আসিফ নজরুল বলেন,‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানবাধিকার রক্ষা তো দূরের কথা, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হতো। আইনেও ছিল নানা সীমাবদ্ধতা। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার রক্ষায় একটি মাইলফলক স্থাপন করে দিয়ে যেতে চায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এত শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতায় আমরা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই মানবাধিকার কমিশন মানবাধিকার রক্ষা তো দূরের কথা মানবাধিকার হরণের কাজ করেছিল। তারা বিগত সময়ে মানবাধিকার হরণের বিরুদ্ধে কোনো কাজই করেনি শুধু সরকারকেই ডিফেন্স করে গেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন করতে চায়। এই কমিশন গুম খুন সহ যে কোন মানবাধিকার হরণের ঘটনা স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারে, সে বিষয়ে আইন সংস্কার করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে চায়।’

উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন না থাকা বা করতে না পারলে কি হয় সেটা আওয়ামীলীগ আমলের ১৫ বছরে দেখা গেছে। উচ্চ আদালত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পক্ষের শক্তি হিসেবে হাজির হয়েছিল। বিগত সরকারের সময় মানবাধিকারের কর্তা ব্যক্তিরা যারা ছিল তারা দেশে ও দেশের বাইরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পক্ষে দেশে ও বিদেশে বিভিন্নভাবে বক্তব্য রেখেছেন। বর্তমান সরকার ভালো একটি আইন করে দিয়ে যেতে চায়। আশা করা যায় ভালো একটি আইন করে দিয়ে যেতে পারবে সরকার। কারণ এই সরকারের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি স্মৃতি রয়েছে।’

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন,‘দীর্ঘ ১৫ বছরের গুম, খুন ও আয়নাঘর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত সময়ে মানবাধিকার কর্মীদেরকেই গুম করা হত। তাদের ওপর টর্চার ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হত।’

সভায় তিনি আরও বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছরে যে দুঃশাসন, আয়নাঘর, নির্যাতন, গুম হয়ে যাওয়া বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমিক অসংখ্য মানুষের সঙ্গে যা হয়েছে তা যেন আর না হয়। সেজন্য অন্যরকম একটি প্রতিষ্ঠানে যেন মানবাধিকার কমিশনকে রূপান্তরিত করা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান সরকার।’

সভায় মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের বিশেষ পরামর্শক ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন। বক্তব্য দেন, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার, বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি রেটু সিগফ্রিড রেংগলি, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

সভায় বলা হয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৩ নম্বর আইন) রহিত করে নতুনভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়নের ড্রাফট নিয়ে কাজ করছে সরকার।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম