ঢাকা ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হলেন ৪০ কর্মকর্তা ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ ও পদ্মা ব্যারেজ করার প্রতিশ্রুতি গণতন্ত্রের উত্তরণে বাধা দিলে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে: সালাহউদ্দিন রাজশাহীতে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান ৭১ নিয়ে আগে মাফ চান, পরে ভোট চান: মির্জা ফখরুল আমরা আর কাউকেই টানাটানি করার সুযোগ দেব না: জামায়াত আমির সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে গণ্ডগোলের পাঁয়তারা চলছে: গভর্নর সাংবাদিকরা পর্যবেক্ষণ করলে নির্বাচনে স্বচ্ছতা থাকবে: সিইসি বঙ্গোপসাগরে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া দিতে যাচ্ছে ভারত বিএনপির বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী কায়দায় অপপ্রচার চলছে: মাহদী আমিন

সন্তান জন্মদানে স্ত্রীকে চাপ দিতে পারবেন না স্বামী : মুম্বাই হাইকোর্ট

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ অক্টোবর, ২০২২,  12:31 PM

news image

সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য স্বামী তার স্ত্রীকে কখনোই চাপ দিতে পারবেন না। সন্তান জন্মদানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নারীর রয়েছে বলে এক মামলার রায়ে জানিয়ে দিলেন মুম্বাই হাইকোর্ট। সম্প্রতি মুম্বাই হাইকোর্টে এক মামলায় প্রশ্ন ওঠে- একজন নারী তার স্বামীর অনুমতি ছাড়াই যদি গর্ভপাত করান, তা হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে কি না। ওই মামলায় বিচারপতি অতুল চন্দুরকর এবং উর্মিলা জোশী-ফালকের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, একজন নারীকে সন্তান জন্মদানে বাধ্য করা যায় না। আদালত জানিয়েছেন, ওই নারীর স্বামীর আবেদন আদালতে গৃহীত হলেও জন্মদানের বিষয়টিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে একজন নারীর। ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী বিষয়টি নারীদের ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। এর পাশাপাশি আদালত জানিয়েছেন,

বিয়ের পর একজন নারী যদি কর্মক্ষেত্রে যুক্ত থাকতে চান, তা কখনোই অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে না। পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ওই নারী দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের আবেদন জানিয়ে তার স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন নাকচের আবেদন জানান। ওই নারীর পক্ষে পরিবার আদালত রায় দিলে পাল্টা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তার স্বামী। মুম্বাই হাইকোর্টও স্বামীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ওই নারী পেশায় শিক্ষিকা। তার ৪৭ বছর বয়সী স্বামীও শিক্ষক। স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি অপরাধের অভিযোগ তুলে বিচ্ছেদের আবেদন জানান। তার অভিযোগ, ২০০১ সালে বিয়ের পরেও কর্মক্ষেত্রে যুক্ত থেকেছেন স্ত্রী। এমনকি দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হলে স্বামীকে না জানিয়েই গর্ভপাত করান তিনি। এর পাশাপাশি ওই ব্যক্তির দাবি, ২০০৪ সালে তাকে না জানিয়েই ছেলেকে নিয়ে ‘ঘর’ ছেড়েছিলেন তার স্ত্রী। আর ফিরে আসেননি। স্ত্রীর আইনজীবী অবশ্য জানিয়েছেন, তার মক্কেল মাতৃত্ব মেনে নিয়েই প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে অসুস্থতার জন্য গর্ভপাত করাতে বাধ্য হয়েছিলেন। ওই নারী স্বামীর ‘ঘর’ ছেড়ে বেরিয়ে এলেও ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তাকে ফেরানোর স্বামী কোনো চেষ্টাই করেননি বলেও অভিযোগ করা হয়। এমনকি সন্তানের বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ভারও বহন করেননি স্বামী। এর পাশাপাশি ওই নারীর আইনজীবী জানান, তার মক্কেলকে সন্দেহ করতেন স্বামী ও তার বোন। তাই স্বামীকে ছেড়ে অন্যত্র থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।আদালতের বক্তব্য, একজন নারী সন্তান জন্ম দেবেন কি না, সেই সিদ্ধান্তের জন্য তার বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ তোলা যায় না। স্ত্রীর বিরুদ্ধে গর্ভপাতের অভিযোগ প্রমাণের দায়ও স্বামীরই।   স্ত্রীর বাড়ি ছাড়ার প্রসঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনো নারীকে সন্দেহের নজরে দেখা হলে তার পক্ষে শ্বশুরবাড়িতে থাকা খুবই কঠিন। এর পরেই স্বামীর অভিযোগ খারিজের পাশাপাশি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনও নাকচ করে দেন বিচারক। -সূত্র : লাইভ ল।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম