NL24 News
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৪, 11:16 AM
সকল প্রতিকুলতা ভেঙ্গে গাড়ির স্টিয়ারিং এখন মিষ্টি আক্তারের হাতে
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : মিষ্টি আক্তার এখন জাতিসংঘের গাড়ির চালক হতে চায়। ২০২১সালে তিনি মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতি চাইল্ড নট ব্রাইড প্রকল্প (সিএনবি)‘র সহযোগিতায় কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুই মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী রায়গঞ্জ রাঙ্গালীর বস গ্রামের গাজিউর রহমানের মেয়ে। মা মোছাঃ রহিমা বেগম। বাবার একমাত্র বাড়ি ভিটে ছাড়া আর কোন জমি নেই। বাবা মা আর দুই বোন পরিবারের সদস্য। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে, শত প্রতিকুলতা পেরিয়ে মিষ্টি আক্তার এখন নাগেশ্বরী সরকারি কলেজের বি.এ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। সবকিছু মিলিয়ে মহিদেব প্রকল্পের সিএন্ডবি প্রজেক্ট এর মাঠ কর্মির মাধ্যমে সদস্য হয়ে মিষ্টি আক্তার প্রশিক্ষণ নিতে জীবনের প্রথমবার গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে নেয় কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রথম প্রশিক্ষনের মাধ্যমে। মিষ্টি বলেন, মানুেষর গাড়ি চালাতে দেখে ভাবতাম আমিও গাড়ি চালাবো, মেয়ে হয়েছি তা কি হয়েছে, ছেলেরা পারলে আমিও পারবো। এই দৃঢ় মনবল নিয়ে শুরু হয় তার জীবন যুদ্ধ। প্রথম প্রথম কঠিন মনে হলেও প্রশিক্ষণ শেষ করার পর সে এখন অনেক ভালো ভাবে গাড়ি চালাতে সক্ষম। সে জাতিসংঘের গাড়ি চালাতে চায়। কুড়িগ্রাম জেলায় নারি ড্রাইভার এর পরিসংখ্যান জানতে কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এর অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আইনুল হকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, নারি চালকের সংখ্যা খুবি কম যারা আবেদন করেন তাদেরকে গুরুত্ব সহকারে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কুড়িগ্রাম এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নুরুস সাফা সরকার জানায়,নারি দের আগ্রহ কম,তবে নারি চালক তৈরী করতে পারলে সড়ক নিরাপদ থাকবে। এখন জাতিসংঘের সংস্থাটিতে কাজ করার জন্য গাড়ির বিদেশি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ইংরেজি ভাষা শিখতেও প্রস্তুতি নিচ্ছে মিষ্টি আক্তার। দেশে অপেশাদার চালক হিসেবে লাইসেন্স নেওয়া নারীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে সে তুলনায় পেশাদার হিসেবে লাইসেন্স নেওয়ার নারীর সংখ্যা বাড়েনি। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮তে নারী চালক নিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দক্ষ নারী চালক তৈরিতে নিরাপদ সড়ক চাই, মহিদেব যুব সমাজ উন্নয়ন সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। নারী চালকদের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বলছেন, নারী চালকের সংখ্যা বাড়লে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে। একই সঙ্গে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন হবে। গাড়িচালক মিষ্টি জানালেন, তিনি যখন গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন, তখন এসএসসি পাস ছিলেন। এর পর কাজের পাশাপাশি এইচএসসি পাস করে বর্তমানে সে নাগেশ্বরী সরকারি কলেজের বি.এ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী । তার স্বপ্ন সে চাকরি করে দরিদ্র বাবা মা'র সংসারে সাহায্য করবে।