ঢাকা ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
নিখোঁজের দুই দিন পর ব্যাগে ভরা শিশুর লাশ উদ্ধার শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দুর্গাপূজা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসব: রিজভী রাজধানীর সব হকারকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার, দুই মেরুতে বিএনপি-জামায়াত কক্সবাজারে রিসোর্টের আগুনে মৃত্যু বেড়ে ১০ দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশই বেকার: আইএমএফ ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আজ ঐতিহাসিক ‘শিক্ষা দিবস’, যে রক্তের বিনিময়ে এসেছিল শিক্ষার অধিকার ভয়ংকর রাতের ট্রাক

সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার, দুই মেরুতে বিএনপি-জামায়াত

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ অক্টোবর, ২০২৬,  1:52 PM

news image

জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। দীর্ঘ আলোচনার পর জাতীয় সনদে সই করে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর সেই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে তৈরি হয়েছে মতভিন্নতা। সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার-এ প্রশ্নে মুখোমুখি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, রাজনৈতিক বিরোধে তা বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।


 


গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামায় সই করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল। পরে গণফোরাম ও জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) সনদে সই করে। তবে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশ নিলেও বামধারার চারটি দল সনদে স্বাক্ষর করেনি।


 


সনদে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের একটি ভিত্তি তৈরি হলেও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে এখন দেখা দিয়েছে মতবিরোধ। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে বিএনপি সরকার। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দাবি, কেবল সংশোধন নয়, প্রয়োজন মৌলিক সংবিধান সংস্কার। এ নিয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।


 


এই পরিস্থিতিতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটি পেশাজীবীদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত সাতটি বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে সংসদে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবগুলো নিয়ে আবারও গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।


 


দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর ও টেকসই সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।


 


তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে বসেছে। আমরা যাদের কাছে মতামত জানতে চাচ্ছি, কী করলে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংবিধান সংশোধন করতে পারি, সে বিষয়ে তাদের পরামর্শ নিচ্ছি।”


 


বিরোধী দলের জন্য কমিটির দরজা খোলা রয়েছে জানিয়ে চিফ হুইপ আরও বলেন, “বিরোধী দলের জন্য সবসময় দরজা খোলা রয়েছে। কমিটিতে তাদের আমরা স্বাগত জানাই। সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই।”


 


তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর। দলটির দাবি, বিরোধী দলের মতামত উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলে তা ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষ কমিটিকে বয়কট করে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট।


 


জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিরোধী দল কমিটিতে না গেলেও সরকারের কার্যক্রম থেমে থাকবে না—এমন মনোভাব ক্ষমতাসীনদের মধ্যে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার প্রতিফলন।’ 


 


অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি আগেও ক্ষমতায় থাকাকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা মানতে চায়নি। কিন্তু একপর্যায়ে সেই ব্যবস্থা মেনে নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিল পাস করে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল দলটিকে। তাই এত অহংকার ভালো না।’


 


মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘বিরোধী দলসহ সংসদে ৯০ জন সদস্য রয়েছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১টি দল আন্দোলন করছে। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’


 


এদিকে, বিরোধী দলের মতামত ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা হলে ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জামায়াত।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম