ঢাকা ০২ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ঈদ ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর গণমুখী উদ্যোগে গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন: মাহদী আমিন ‘আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার’ ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আর নেই সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিশাল জাল তৈরি হয়েছে: রিজভী ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা মোকাবিলায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ফটিকছড়িতে বাসচাপায় বাবা-ছেলের মৃত্যু

শিক্ষায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত, সমালোচনার পাল্লা ভারী

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ জুন, ২০২৬,  11:27 AM

news image

শিক্ষায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত, সমালোচনার পাল্লা ভারী

বিএনপি সরকারের ১০০ দিনের মধ্যে শিক্ষা খাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নীতিগত পরিবর্তন এসেছে। স্কুলে আবার ভর্তি পরীক্ষা ও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চালু, পাবলিক পরীক্ষা এগিয়ে আনা, মাধ্যমিক স্তরে তিনটি নতুন বিষয় সংযোজন, পাঠ্যবই পরিমার্জন, ডিজিটাল নকল ঠেকাতে পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক পদায়ন সমালোচনাকে উস্কে দিয়েছে। বিতর্কিত অনেক সিদ্ধান্তে সমালোচনার পাল্লাই ভারী। 

সরকারের দাবি, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষাবিদের একাংশের মত, দ্রুত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বাস্তবায়ন কাঠামো ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হলো ২৭ মে। 

নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘ন্যায্য, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই শিক্ষা খাতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এর আগে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখায়ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।

স্কুলে আবার ভর্তি পরীক্ষা চালু

করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব ভর্তি লটারির মাধ্যমে শুরু হয়। কিন্তু বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় গত ১৭ মার্চ স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় বসতে হবে। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অভিভাবকের একটি অংশের আশঙ্কা, ভর্তি পরীক্ষা শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি কোচিং-নির্ভরতা আবারও বেড়ে যেতে পারে। 

১৬ বছর পর ফিরল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা

প্রাথমিক স্তরে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বৃত্তি পরীক্ষা আবার চালুর সিদ্ধান্তকে সরকারের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ১৫ এপ্রিল এ পরীক্ষা শুরু হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি এবং মেধাবীদের আলাদা মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

এগিয়ে আনা হলো এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা

পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আগের তুলনায় এগিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ফল প্রকাশের সময়ও কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, এসএসসি ও এইচএসসির ফল প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সময় আরও কমিয়ে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, সবকিছু যখন আধুনিক ও দ্রুত হচ্ছে, তখন ফল প্রকাশের সময়ও কমিয়ে আনা হবে।

নতুন শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে তিন বিষয়

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে তিনটি নতুন বিষয় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যদিও বিষয়গুলোর পূর্ণাঙ্গ কাঠামো এখনও প্রকাশ করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, যুগোপযোগী দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

ডিজিটাল নকল ঠেকাতে আইন সংশোধন

পাবলিক পরীক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি ও ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহার এবং ডিজিটাল প্রতারণা ঠেকাতে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।

২২ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ 

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ২২টি পাবলিক (সরকারি) বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উচ্চ শিক্ষা খাতে প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতেই দ্রুত এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট পুনর্গঠন

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এতে আর্থিক অনিয়ম কমবে এবং শিক্ষকরা দ্রুত সুবিধা পাবেন।

খোলা থাকবে স্কুলের মাঠ

শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারি স্কুলের মাঠ স্থানীয় শিক্ষার্থী ও শিশুদের জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপন 

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষা খাতে কোনো ধরনের কার্পণ্য করবে না সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে দুই হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে এবং পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।

মিড-ডে মিল নিয়ে সমালোচনা

সরকারের কিছু কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনাও চলছে। সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পচা বা কাঁচা কলা, নিম্নমানের বানরুটি ও নষ্ট ডিম সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্তের আশ্বাস দিলেও শিক্ষাবিদরা একে ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন।

প্রশাসনিক পদায়নে বিতর্ক

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সোহেল বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার সমিতির আহ্বায়ক। তিনি বিসিএস ১৬তম ব্যাচের কর্মকর্তা। এতে ১৪তম বিসিএসের অধ্যাপকদের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস আলোচিত তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে প্রেষণে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির কয়েক দিনের মাথায় তা বাতিল করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৯ মে এ আদেশ বাতিল করে। তিনি চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা, আর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) পদটি তৃতীয় গ্রেডের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় সমালোচনার মুখে সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নতুন পরীক্ষা

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের তথ্য আবার যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। শুধু তাই নয়, সুপারিশপ্রাপ্তদের আবার মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এ মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে। এতে উত্তীর্ণরাই কেবল যোগদানের সুযোগ পাবেন।

এ সিদ্ধান্তে নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, চূড়ান্ত সুপারিশের পর নতুন পরীক্ষা নেওয়া অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি বাড়াবে।

এমপিওভুক্তি নিয়ে নতুন জটিলতা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এক হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই তালিকা আবার যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগের তালিকার পাশাপাশি নতুন আবেদনও নেওয়া হবে। পরে সব আবেদন একত্রে মূল্যায়ন করে নতুন তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, চূড়ান্ত তালিকা বাতিল করা হয়নি। নতুন আবেদনের সঙ্গে পুরোনো তালিকাও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

তবে এ সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। 

প্রতিমন্ত্রীর বেফাঁস মন্তব্য

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে একটি পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’-এর সঙ্গে তুলনা করেন এবং গবেষণার ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় পিছিয়ে থাকার মন্তব্য করেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এই বক্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়। অনেকে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

পরবর্তী সময়ে ববি হাজ্জাজ নিজের ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি দিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করেন। তিনি বলেন, তাঁর মন্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং এটি সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়; বরং ব্যক্তিগত মতামত ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গবেষণানির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে চেয়েছিলেন।

বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে গবেষণা, মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন, স্বচ্ছতা এবং একাডেমিক সততার বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্যে কেউ মর্মাহত হয়ে থাকলে তিনি সেটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করছেন।

এদিকে, বিতর্ক থেমে না গিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনায় রূপ নিয়েছে। অনেক শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ মনে করছেন, বক্তব্যটি অনভিপ্রেত হলেও এর মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণার মান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং একাডেমিক সংস্কার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আত্মসমালোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে শিক্ষা খাতে দৃশ্যমান কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

একদিকে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নের উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগ, এমপিওভুক্তি ও প্রশাসনিক পদায়ন নিয়ে বিতর্ক সরকারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।

শিক্ষা খাতে বর্তমান সরকারের কর্মমূল্যায়ন করে শিক্ষাবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ  বলেন, নতুন সরকার শিক্ষায় অগ্রাধিকারের ঘোষণা দিয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও অন্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা নানা পদক্ষেপ ও কার্যক্রমের কথা বলছেন। কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ আগেও নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এগুলোর সফল বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। একই সাংগঠনিক কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও কর্মকর্তাদের নিয়ে ভিন্ন ফল কি পাওয়া যাবে? 

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষে যেসব উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, এর মধ্যে অতি জরুরি কিছু বিষয়ের উল্লেখ দেখা যায় না। যেমন– এলাকাভিত্তিক বিকেন্দ্রীকরণ শিক্ষাসেবা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা। প্রতি বিদ্যালয়ে সব শিশুর মৌলিক দক্ষতা অর্জনের নিশ্চয়তা, দারিদ্র্য বা অন্য কোনো কারণে কোনো শিশু গ্রহণযোগ্য মানের বিদ্যালয় শিক্ষণ থেকে বঞ্চিত না থাকা, শিক্ষকের দক্ষতা, মর্যাদা, কৃতীর মানেও শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বড় পরিবর্তন, ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অনুযায়ী শিক্ষাকে সর্বজনীন করার সময়বদ্ধ কার্যক্রম। এসব বিষয়ে প্রস্তাব ও বাস্তবায়নের যথার্থ নির্দেশনার জন্য বর্তমান সংগঠনিক কাঠামোর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা যথেষ্ট নয়।

সূত্র : দৈনিক সমকাল


logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম