নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ এপ্রিল, ২০২৬, 4:12 PM
শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বাড়ানো নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের উৎসব ভাতা আরো ১০ শতাংশ বৃদ্ধির বহুল আলোচিত প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর ফলে শিক্ষক কর্মচারীরা আগের নিয়ম অনুযায়ীই কেবল তাদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাবেন। রোববার (৫ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সভায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এই উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবটি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। সভায় নেওয়া এই নেতিবাচক সিদ্ধান্তের বিষয়টি ইতিমধ্যেই বর্তমান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলনকে দাপ্তরিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা এই অনাকাঙ্ক্ষিত খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষক কর্মচারীদের উৎসব ভাতা আপাতত বাড়ছে না। তবে এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী পরবর্তীতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর আগে মার্চের শুরুতেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে উৎসব ভাতা আরো ১০ শতাংশ বাড়ানোর একটি চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক পাসের জন্য এই প্রস্তাবটি গত ৫ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই এটি চূড়ান্ত ও কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তবে গতকাল শনিবার প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যাওয়ায় আসন্ন উৎসবে বাড়তি ভাতার আশা অধরাই রয়ে গেল। প্রসঙ্গত দীর্ঘদিন ধরেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতো সমপরিমাণ উৎসব ভাতার জন্য বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন ও দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বর্তমানে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের মাত্র ২৫ শতাংশ এবং কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। সেই হিসেবে এই বিশেষ প্রস্তাবে সবার জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ যুক্ত করে এটিকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই বিশেষ স্কিমে উৎসব ভাতা মাত্র ১০ শতাংশ বাড়াতে গেলেই সরকারের বার্ষিক বাজেটে অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকারও বেশি অংকের বাড়তি খরচের বোঝা তৈরি হতো। মূলত দেশের সার্বিক বাজেট সংকট ও আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করে অর্থ মন্ত্রণালয় এই মুহূর্তে ফাইলটি ছাড় করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বা পর্যায়ক্রমে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের কোনো ক্ষীণ সম্ভাবনা আছে কি না তাও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।