ফয়জুল ইসলাম
২৬ জানুয়ারি, ২০২২, 8:20 PM
রানীর পর এবার গিনেসবুকে সাভারের 'চারু'
রানীর পর এবার সাভারে আবারও বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু হিসেবে গিনেস বুকে জায়গা করে নিযেছে চারু নামের খর্বাকৃতির আরেকটি গরু। চারুর মতো শিকড় এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে খামারেই বেড়ে উঠেছিলো রানীও। বুধবার সাভারে আশুলিয়ার চারিগ্রাম এলাকায় শেকড় এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সুফিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারী) ইমেইলের মাধ্যমে গিনেস কতৃপক্ষ চারুকে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট জীবিত গরুর স্বীকৃতি দিয়ে ইমেইল পাঠায়। এর আগে ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর শেকড় এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ গিনেস বুকে ইমেইলের মাধ্যমে আবেদন করে। খামার কতৃপক্ষ জানিয়েছে, চারু নামের গরুটির জন্ম ২০১৯ সালের জুলাই মাসে।
সে হিসেবে তার বয়স আড়াই বছর। চারুর এখন চার দাঁত। উচ্চতা ২৩.৫০ ইঞ্চি, লম্বা ২৭ ইঞ্চি ও ওজন ৩৯ কেজি। ২০২১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর গিনেস বুকে মৃত গরু হিসেবে রেকর্ড গড়া রাণীর উচ্চতা ছিলো ২০ ইঞ্চি, লম্বা ২৪ ইঞ্চি ও ওজন ২৬ কেজি। রাণীকে দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা খামারের কর্মচারী মোঃ মামুন বলেন, আমাদের শিকড় এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিজ খামারে অনেক রকমের পশু-পাখি পালন করি। রাণী মারা যাওয়ার পর প্রায় ছয় মাস আগে চারুকে আমরা সিলেট থেকে সংগ্রহ করেছি। যেভাবে রাণীকে সংগ্রহ করা হয়েছে সেভাবেই চারুকে আনা হয়েছে। এরপর থেকে এই খামারে রাণীকে প্রাকৃতিক খোলামেলা পরিবেশে পালন করছি। আগে যেহেতু আগে আমাদের রাণী মারা গেছে তাই চারুর প্রতি একটু বেশি যত্ন নেই। স্যাররা এখানে আসার পর ওর নাম চারু দিয়েছে। গিনেস বুক কতৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী একাধিকবার চারুর মাপের ছবি এবং ভিডিও পাঠানো হয়েছে। শিকড় এগ্রোর পশু চিকিসক প্রতি দুসপ্তাহ পরপর চারুকে দেখতে আসেন এবং চারুর ওজন, শরীর চকচকে আছে কি না, গঠন বাড়ছে কি না এসব দেখেন।' খামারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাজী সুফিয়ান বলেন, 'অল্প ক’দিনেই রাণী’র উল্লেখযোগ্য ভক্ত তৈরী হয়ে গেছিল। আর তাই বেশীরভাগ মানুষই রাণীর মৃত্যু মেনে নিতে পারেনি। আমরা অনেক টাকায় বিক্রির অফার পেয়েও কেন বিক্রি করিনি সেটা নিয়ে অনেকে বিদ্রুপ করেছেন। কেউ কেউ আমাদের গাফেলতির কথা বলে আমাদের বকাও দিয়েছেন। ঐ সময়টায় ভীষণ খারাপ লাগলেও আমরা দাঁতে দাঁত চেপে পরিস্থিতি মেনে নিয়েছিলাম। আসলে রাণী’র প্রতি সবার ভালবাসাটা আমরা বুঝতাম।' তিনি আরও বলেন, 'রাণী’র মৃত্যুর পর গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কতৃপক্ষ শোক প্রকাশ করে আমাদের ইমেইল পাঠান। তারা জানান, রাণীর সম্মানার্থে পৃথিবীর সবচেয়ে জীবিত ছোট গরু হিসেবে আরো একটা ক্যাটাগরি তারা চালু করবেন এবং আমাদের কাছে কমপিট করার মতন কিছু থাকলে চাইলে এতে অংশগ্রহণ করতে পারি। যারা শিকড় এগ্রো সম্পর্কে জানেন, তাঁরা নিশ্চয়ই জানেন আমাদের সুদক্ষ এবং নির্ভরশীল কর্মীবাহিনী প্রতিদিনই দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ান। রানীর জীবদ্দশায়ই আমাদের সংগ্রহশালায় নতুন চমক যোগ হয় ৪ দাঁতের প্রাপ্তবয়স্ক দেশীয় প্রজাতির বামন গরু চারু। যার উচ্চতা ২৩.৫০”, লম্বা ২৭” এবং ওজন ৩৯ কেজি। যাকে বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে জীবিত ছোট গরু হিসেবে গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কতৃপক্ষ স্বীকৃতি দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার গিনেস বুক কতৃপক্ষ আমাদের মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চারুকে নিয়ে পরিকল্পণার বিষয়ে সুফিয়ান বলেন, 'আমাদের ইচ্ছে ছিল বিশ্বরেকর্ডধারী রানী’কে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’কে উপহার হিসেবে দেয়া। যেন সরকারের তত্ত্বাবধানে রাণী তার জীবনের সর্বোচ্চ সময়টা উপভোগ করতে পারে। কিন্তু রাণী অকালে চলে যাওয়ায় সে সুযোগটা আর আমরা পাইনি। এদডকে বিশ্বরেকর্ডধারী চারু যেন জীবনের সর্বোচ্চ সময়টা উপভোগ করতে পারে এটা আমাদের একান্তই প্রার্থনা। আর তাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাছে উপহার চারু’র কে তুলে দিয়ে চারুর জীবনের সর্বোচ্চ সময়টা উপভোগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঙ্গালী জাতিকে শিকড় এগ্রোর পক্ষ থেকে উপহার দিতে চাই।'