ঢাকা ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
আমি কথা কম বলি কাজ বেশি করি: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী সকলে মিলে সুন্দর সাতক্ষীরা গড়ে তুলবো: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি মা হারালেন ক্রিকেটার শেখ মেহেদী বিসিবি'র প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পেলেন হাবিবুল বাশার নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৪ জনের যাবজ্জীবন দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেবো না: শিক্ষামন্ত্রী ১৪ এপ্রিলের আগেই বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচন সচিবালয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদপুরে চুরি-ছিনতাই রোধে যে পদক্ষেপ নিচ্ছেন ববি হাজ্জাজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাজউকের উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

#

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  10:55 AM

news image

মাইনুল হাসান : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি নতুন কোনো বিষয় নয়! এবার রাজউকের উত্তরা এস্টেট ভূমি শাখার উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের তথ্য দৈনিক মুক্তখবরের হাতে এসেছে। জানা যায়, আওয়ামী লীগের দোসর স্বৈরাচার সরকারের সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ছেলে আসাদুজ্জামান বিশ্বাস। ২০১৬ সালে রাজউকে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। যোগদানের পর থেকেই তিনি উত্তরা এস্টেট ভূমি শাখায় টানা ১১ বছর কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে অন্য শাখায় বদলি করার চেষ্টা করা হলে অবৈধ অর্থের প্রভাবে তিনি পুনরায় একই শাখায় ফিরে আসেন।

আসাদুজ্জামান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্লট জালিয়াতি, কিস্তি ফেল প্লট অবৈধভাবে বহাল, নিলাম বাতিলযোগ্য সম্পত্তি হস্তান্তর এবং প্রতিটি ফাইলের বিপরীতে লক্ষাধিক থেকে কোটি টাকার ঘুষ গ্রহণের বিস্তৃত অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতাকে দমনে অর্থ যোগান দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উত্তরাবাসীর পক্ষে গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে একই শাখায় দায়িত্ব পালন করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে ঘুষের অর্থ বণ্টন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা যাচাই করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে। অভিযোগ অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান বিশ্বাসের নামে-বেনামে উত্তরা ও নিকুঞ্জ এলাকায় একাধিক প্লট ও বাড়ি রয়েছে। এছাড়া তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিদেশে অর্থ পাচার ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি শিগগিরই চাকরি ছেড়ে বিদেশে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিকুঞ্জ-২, রোড নং-২, প্লট নং-১৪-এর কিস্তি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না হওয়ায় প্লটটি বাতিলযোগ্য ছিল। তবে ভুয়া কিস্তি রশিদ ও জাল নথি তৈরি করে আম মোক্তার অনুমোদন করে  ৩০-৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে  দলিল সম্পাদন করে। একইভাবে উত্তরা আবাসিক এলাকা, সেক্টর-১০, রোড নং-২৪, প্লট নং-২১-এ ৭ বছরের মধ্যে কিস্তি পরিশোধ না করা সত্ত্বেও ২০১৯ সালে ভুয়া ডকেট নম্বর ও তারিখ ব্যবহার করে আবেদন নথিভুক্ত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্লট বহাল ও বিক্রির অনুমতির বিনিময়ে ৫০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একই ব্যক্তির নামে একাধিক প্লট বরাদ্দের অভিযোগও রয়েছে। রাজউকের অনুমতি না থাকা সত্তেও একই ব্যক্তির নামে একাধিক প্লট বরাদ্ধ রাখার প্রস্তাব ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, রাজউকের প্লট আইডি ১৩-১২-১৩ ও ১৭ আই-৩ এ-৪৪ প্লট নং ২০-৪০১-১১, আই-৩বি- ২৩ ও ১৭ জি-৬-২৬ প্রতিটি প্লট বহালের বিপরীতে ২০-৩০ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও ১৩/এ ধারার প্লট ‘নিষ্কণ্টক’ দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়।  আরো জানা যায় যে, প্লট নং- ১৫ জি ৪ বি-২৪ উল্লেখ করা হয়েছে বরাদ্দ গ্রহীতা একজন দ-প্রাপ্ত আসামি। অভিযোগকারীদের দাবি, এই ফাইল নিষ্পত্তির জন্য কোটি টাকার বেশি ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এছাড়া উত্তরা ১১ নং সেক্টর, সোনারগাঁ রোডের ১০ কাঠা আয়তনের ৬৪ নং বাণিজ্যিক প্লট সময়মতো নিলামের অর্থ পরিশোধ না করায় বাতিলযোগ্য হলেও পুনরায় নিলাম না করে হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়াও এই ফাইলটি থেকেই প্রায় ১০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। প্লট পরিবর্তনের নামে দখল ও ভাড়া বাণিজ্য করা হয়। প্লট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আগের প্লটগুলো সিন্ডিকেটের দখলে রেখে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ করা হয়-১৬-সি সেক্টর, রোড ২/এ, প্লট ১৪, ১৬-এ সেক্টর, রোড ৮, প্লট ৪, ১৫-বি সেক্টর, রোড ১-বি, প্লট ৬ এসব প্লটের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের বিনিময়ে প্রতি প্লটে ৪০-৫০ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাটাগরিতে ভুয়া এওয়ার্ডের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তরা ৩য় পর্ব প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাটাগরিতে ভুয়া এওয়ার্ড সার্টিফিকেট ব্যবহার করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি আবেদন থেকে ৫০ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি। মোট ৩০টি আবেদন থেকে শতকোটি টাকার লেনদেন হওয়ার দাবি করছেন আবেদনকারী। এসব নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উত্তরাবাসীর পক্ষ থেকে স্বাধীন তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের অবৈধ সম্পদ জব্দ, প্লট বরাদ্দ কার্যক্রম স্থগিত এবং দীর্ঘদিন একই শাখায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত বদলির দাবি জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতার আন্দোলন দমনে অর্থ যোগানদাতা এই আসাদুজ্জামান বিশ্বাস। তিনি সাবেক সরকারের দোসর হয়েও কিভাবে এখনও ঘুষ দুর্নীতি করে স্বপদে বহাল আছেন! এই অভিযোগের বিষয় রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে জানতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য মুক্তখবরের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামানকে ফোন করলে তিনি কোন প্রকার উত্তর না দিয়ে প্রতিবেদককে অশ্লিল ভাষায় গালাগাল করেন। এর কিছু পরেই ইটিভি হতে বিশেষ প্রতিবেদক পবন নামের জনৈক ব্যক্তি প্রতিবেদককে ফোন করে আসাদুজ্জামান বিশ্বাসকে ফোন না করার জন্য বলেন।




logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম