NL24 News
১৩ অক্টোবর, ২০২৩, 10:27 PM
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে চোরাই মালামালসহ পিতা-পুত্র গ্রেফতার
আবুল হোসেন বাবলুঃ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানীত পুলিশ কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান বিপিএম-বার পিপিএম-বার এর নির্দেশনা মোতাবেক জুলাই/২০২৩ থেকে রংপুরের শীর্ষ সস্ত্রাসী, মাদক, জুয়া, সংঘবদ্ধ চুরি ও কিশোর অপরাধসহ সকল ধরণের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। এই বিশেষ অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সকাল অনুমান ০৬ টার দিকে কোতয়ালী থানার অন্তর্ভুক্ত ব্র্যাক ইন্সটিটিউ অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে একটি চুরি সংঘঠিত হয়। এতে নগদ অর্থ সহ কম্পিউটার, প্রিন্টার, মোবাইল ফোন, স্ক্যানার, পেনড্রাইভসহ অফিসে রক্ষিত বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় সেন্টার লিড পদে কর্মরত মোঃ মেহেদী হাসান বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় চুরি সংক্রান্তে একটি এজাহার দায়ের করলে কোতয়ালী থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়।যার মামলা নং-২৮, জিআর নং-৪৫৬, তারিখ- ১৫/০৯/২০২৩খ্রি., ধারা-৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড)। ওই মামলার প্রেক্ষিতে চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ চোর গ্রেফতারে মাঠে নামে মহানগর থানা পুলিশ। আজ শুক্রবার ১৩ অক্টোবর দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত চোরাইকৃত মালামাল সমূহ উদ্ধারের লক্ষ্যে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমানের নেতৃত্বে এস আই মজনু মিয়া, এসআই গনেশ চন্দ্র রায়, এস আই মোবারকসহ একটি আভিযানিকদল বদরগঞ্জ থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। কিন্তু বদরগঞ্জ থেকে চোরাই মালামাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলায় মালামালের সন্ধান পায়নি পুলিশ। পরে আরপিএমপি হারাগাছ থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার সাথে জড়িত আসামী (পূর্বের গ্রেফতারকৃত শিশু আলিফ এর পিতা) মোঃ সেলিম আহম্মেদ (৪৫) কে গ্রেফতার সহ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃত আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু হাসিবুল হাসান আলিফ (১৫) কে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে (চারতলা মোড় মৎস অফিসের পাশে অবস্থিত) ব্র্যাক স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এর সাবেক প্রশিক্ষনার্থী। ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ শেষ হবার পরেও আলিফ প্রায় সেখানে যাতায়াত করত। অফিস স্টাফদের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলে আলিফ। যাতায়াতের এক পর্যায়ে আলিফ সু-কৌশলে সবার অগোচরে ট্রেনিং সেন্টার এর কেচি গেট ও ভেতর গেটের তালার চাবি সংগ্রহ করে নেয়। ঘটনার দিন গত ১৩ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ১২ টার দিকে আলিফ তার কাছে থাকা চাবি দিয়ে কেচি গেটের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে ২য় তলায় থাকা বিদ্যুৎ এর লাইন বন্ধ করে দেয়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হবার পর শিশু আলিফ ৩য় তলার অফিসে গিয়ে তার কাছে থাকা চাবি দিয়ে তালা খুলে অফিসের সিসিটিভির লাইন বন্ধ করে দেয়। এরপর নিচে নেমে পুনরায় বিদ্যুৎ এর লাইন চালু করে সে তিন তলার অফিসে প্রবেশ করে এবং ভেতর দিক দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। রাত সাড়ে বারোটা হতে ভোর ৫ টা পর্যন্ত সে কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মালামাল অফিসে থাকা কাপড়ের পর্দা দিয়ে প্যাকেট করে সেখান থেকে বের হয়ে শাপলায় এসে একটি অজ্ঞাত অটো এবং একটি প্যাডেল চালিত রিক্সা ভাড়া করে মালামাল গুলো বের করে গেটের তালা বন্ধ করে মালামাল সমূহ নিয়ে ভোরে বদরগঞ্জ এলাকায় চলে যায়। চোরাইকৃত মালামাল সমূহ তার ভাড়া করা এক রুমে রেখে রংপুরে চলে আসে। পরে সে সু-কৌশলে চোরাইকৃত মালামাল সমূহ হারাগাছ থানাধীন কাচুগ্রাম কাজীটারী এলাকায় স্থানান্তর করে। আভিজানিক দলটি চোরাই মালামাল সমূহ সেখান থেকে উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী ও চোরাই মালামাল এর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।