NL24 News
২৯ অক্টোবর, ২০২৩, 8:46 PM
রংপুরে পেট্রোলবোমা উদ্ধার, বিএনপি'র ১৭ নেতা-কর্মী আটক
রংপুর ব্যুরোঃ রংপুরে বিএনপির কার্যালয়ের পেছন থেকে ৯টি পেট্রোলবোমা (বোতলজাত) উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়স্থ বিএনপি কার্যালয়ের গলি থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে বিস্ফোরক আইনে পুলিশ মামলা করবে বলে জানানো হয়েছে। রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী ডন এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী বাবুকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ১৪ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ সহিংসতা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলেও জানান, মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন। পেট্রোলবোমা উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মহানগর কোতোয়ালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমান বলেন, নাশকতা সৃষ্টির জন্যই হয়ত কেউ বিএনপি কার্যালয়ের পিছনে এসব পেট্রোলবোমা রেখেছিলো, পুলিশ তা উদ্ধার করেছে। তবে কে বা কারা এসব পেট্রোলবোমা রেখেছে তা অনুসন্ধান করার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ জহির আলম নয়ন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি নাটক সাজিয়েছে। আমরা সকালে শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিলাম। তখন আমাদের কার্যালয় বন্ধ ছিল। পুলিশ নিজেই ভ্যানে করে পেট্রোলবোমা নিয়ে এসে নাটক সাজিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। পুলিশ কোথা থেকে এসব পেট্রোলবোমা উদ্ধার করল তা কেউ দেখল না, হঠাৎ করে ব্যাগে করে বোমা নিয়ে হাজির, আজব ঘটনা। অবাক হয়ে গেলাম।
এদিকে বিএনপি-জামায়াতের ডাকে সারা দেশের মতো রংপুরেও ঢিলেঢালাভাবে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। দিনের শুরুতে তেমন প্রভাব না থাকলেও বেলা বাড়ার পর রংপুর মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, বিক্ষিপ্ত পিকেটিং ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হরতালে দূরপাল্লার বাস ছাড়া যান চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ ১৭ নেতাকর্মীকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এদিকে রংপুর জেলার বদরগঞ্জে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মিতা সিনেমা হল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে শনিবার বিএনপি-জামায়াতসহ গণতন্ত্র মঞ্চ হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত মিছিল করতে পারেনি। রোববার সকালে বিএনপির ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে তিনজনকে আটক করে।
এ ছাড়া দুপুরে হরতালবিরোধী শান্তি সমাবেশ করেছে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনগুলো। সমাবেশ শুরুর আগে সরকার দলীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। উল্লেখ্য, বিএনপি (২৮ অক্টোবর) ঢাকায় মহাসমাবেশের আয়োজন করেছিল। সেই সমাবেশে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড এবং টিয়ার শেল ছুড়ে পণ্ড করে দিয়েছে, এমন অভিযোগ এনে আজ রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে মহাসমাবেশে পুলিশের বাধা ও নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীও হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করে। একই দিনে গণতন্ত্র মঞ্চসহ সমমনা দলগুলোও হরতাল আহ্বান করে।