নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ আগস্ট, ২০২৩, 3:47 PM
যৌতুকের দাবিতে ব্যাংকার স্বামীর বিরুদ্ধে স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ
সাভারের আশুলিয়ায় যৌতুকের দাবিতে স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীকে শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ ব্যাংকার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেন ভুক্তভোগী স্ত্রী। বুধবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষিকা মৌরিন আক্তার নিজে বাদী হয়ে থানায় জিডি করেন। ভুক্তভোগী ওই স্কুল শিক্ষিকা মৌরিন আক্তার (২৫) আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকার মোঃ মোশারফ হোসেনের মেয়ে। সে আলহাজ্ব জাফর বেপারী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা করেন বলে জানা যায়। অভিযুক্ত স্বামী মশিউর রহমান (৩৪) আশুলিয়া চারিগ্রাম অবঃ তাফফার রহমানের ছেলে। সে ব্যাংক এশিয়া লিঃ এর মানিকগঞ্জ সাটুরিয়া শাখায় অফিসার হিসাবে কর্মরত আছে বলে জানা যায়। জিডি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামি শরিয়া অনুযায়ী পারিবারিক ভাবে তাদের বিবাহ হয়। বিয়ের ৩ মাস পরে তাকে বাড়িতে উঠাইয়া নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও তার স্বামী তাকে বাড়িতে উঠাইয়া নেয় নাই। অভিযুক্ত স্বামী ভুক্তভোগী স্ত্রীর বাবার বাড়িতে মাঝে মাঝে যাওয়া আসা করতে থাকে। বিবাহের ৩/৪ মাস পর হইতে অভিযুক্ত স্বামী কারনে অকারনে তার স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরনসহ শারীরিক ও মানসিক ভাবে অন্যায় অত্যচার করে। ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে তাকে তালাক প্রদানের হুমকি প্রদান করে। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাবার বাসায় এসে তার সাথে সাংসারিক খুটিনাটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া শুরু করে এবং তাকে নিয়ে সংসার করবে না বলে জানিয়ে দেয়। এ সময় বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতিসহ হুমকি প্রদান করে। পরে ভুক্তভোগী বাধ্য হয়ে এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি করেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষিকা মৌরিন আক্তার বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকে সে আমার নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করেন। টাকা না দেওয়ায় সে আমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। আমি কোনো উপায় না পেয়ে থানায় জিডি করতে বাধ্য হয়েছি। হঠাৎ কি কারণে এমন নির্যাতন এমন প্রশ্নের জবাবে? তিনি বলেন, বিয়ের তিন মাস পরে আমাকে তুলে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন সময় আমাদের বাড়িতে যাওয়া আসা করলেও আমাকে তাদের বাড়িতে নেওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের অযুহাত মূলক কথাবার্তা বলতে থাকে। পরে সে জানায় তাদের ক্রয় কি তো ফ্ল্যাটটি কমপ্লিট করতে গেলে আরো দশ লাখ টাকা লাগবে। আমার পরিবার তাকে ইতিমধ্যে ২ লাখ টাকা প্রদান করে। সে বাকি টাকার জন্য আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে। মূলত টাকা না দেওয়াই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী মশিউর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল মোল্লা বলেন, শুনেছি এ বিষয়ে একটি জিডি হয়েছে। কিন্তু এখনো হাতে পায়নি। হাতে পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।