যুদ্ধের কারণে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ
১১ আগস্ট, ২০২৬, 11:34 AM
NL24 News
১১ আগস্ট, ২০২৬, 11:34 AM
যুদ্ধের কারণে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ
আইসিসিবির মত
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত এখন আর শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়। এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুতর ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সংঘাত বিশ্ব শান্তি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা ও খাদ্য সরবরাহের জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে। এটি সামরিক সংঘাত হিসেবে শুরু হলেও এর প্রভাব এখন বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পারস্পরিকভাবে নির্ভরশীল বৈশ্বিক অর্থনীতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা আবারও সামনে এসেছে। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশ (আইসিসিবি)-এর গতকাল সোমবার প্রকাশিত (এপ্রিল-জুন ২০২৬) নিউজ বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, এ সংঘাতের পরোক্ষ প্রভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। জ্বালানি, সার ও বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে জাহাজ ভাড়া ও বীমা ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বাধার কারণে আমদানি ব্যয়ও বাড়তে পারে। ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি ও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইসিসিবি মনে করে, জ্বালানিতে সরকারের ভর্তুকি বাড়লে বাজেটের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। সারের দাম বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া মসৃণভাবে সম্পন্ন করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আইসিসিবি বলেছে, বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর এ সংঘাতের প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর। সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। ফলে উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় ধরনের দেশেই মূল্যস্ফীতির চাপ নতুন করে বাড়ছে। এ সংকটের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। সারের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থায় বাধা এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে। উৎপাদন খাতে কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণের খরচ বাড়ছে। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরাও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হয়ে উঠছেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। সূত্র : দৈনিক সমকাল