ঢাকা ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বর্জ্যে জ্বলবে বাতি, চলবে গাড়ি সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত: রাষ্ট্রপতি নতুন পে স্কেলে বেতন পুনর্নির্ধারণ শুরু আজ, লাগবে যেসব তথ্য বাংলাদেশে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশু দিবস বিশ্ব বসতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সিম-টাওয়ার ছাড়াই যোগাযোগ, আলোচনায় ‘লোরা’ প্রযুক্তি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়াল দ্বিতীয় ধাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে জাঙ্গু সোমবার ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও

বর্জ্যে জ্বলবে বাতি, চলবে গাড়ি

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

০৫ অক্টোবর, ২০২৬,  11:18 AM

news image

খুলনার নগরজীবনের প্রতিদিনের ৮০০ টন বর্জ্য এবার বোঝা হয়ে থাকছে না, তৈরি করছে নতুন অর্থনীতির সম্ভাবনা। ডুমুরিয়ার শলুয়ায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে এই বর্জ্য থেকে উৎপাদন হবে জৈব সার, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ। ১৭ একর জমিতে গড়ে ওঠা প্ল্যান্টটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে প্রতিদিন ২০ টন জৈব সার, ৪ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল এবং প্রায় ৪৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে মেশিনারিজ চালুর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সেই সম্ভাবনার বাস্তব পরীক্ষা। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।


সম্প্রতি প্ল্যান্টটির নির্মাণকাজ ও সার্বিক অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে প্ল্যান্টের মেশিনারিজ চালু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ওপর প্রকৌশলীরা একটি প্রতিবেদন দেবেন।


নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রকল্পটি সফলভাবে চালু করা সম্ভব হলে খুলনার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। বর্জ্য তখন আর বোঝা থাকবে না, সম্পদে পরিণত হবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও জেলা শহরের জন্যও এটি মডেল প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ সময় কেসিসির সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মিন্টু মন্ডল, সিআরডিপি-২-এর টিম লিডার মো. শফিকুর রহমান, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার মো. শামসুদ্দিন মোল্লা, কনসালট্যান্ট মো. রুবেল আলী, প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা ইয়াসিন এবং ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।


সার, তেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা :


প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তিন ধরনের বর্জ্য পৃথকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে তিন রকমের পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। গৃহস্থালির পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি হবে জৈব সার। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিক


রিসাইকেল করে উৎপাদন করা হবে জ্বালানি তেল। আর কাঁচাবাজার থেকে সংগৃহীত জৈব বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে তা দিয়ে তৈরি হবে বিদ্যুৎ।


প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, অত্যাধুনিক পাইরোলাইসিস প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে প্ল্যান্টটির কার্যক্রমে বায়ুদূষণের আশঙ্কা থাকবে না। পুরোপুরি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ২০ টন জৈব সার, ৪ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল এবং বায়োগ্যাস থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে প্ল্যান্টটির। প্রতিটি ব্যাচ বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করতে সময় লাগবে এক সপ্তাহ।


নতুন সম্ভাবনার দুয়ার :


খুলনা নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। প্ল্যান্টটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে নগরীর দৈনিক বর্জ্যরে প্রায় ৩০ শতাংশ এখানে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এতে একদিকে বর্জ্যরে পরিমাণ কমবে, অন্যদিকে বর্জ্য থেকে অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।


৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প


২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ডুমুরিয়ার শলুয়া বাজারসংলগ্ন ১৭ একর জমিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। কেসিসি ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের (সিআরডিপি-২) আওতায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।


৫৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করতে নির্মাণ অগ্রগতির পাশাপাশি উৎপাদন শুরুর পর নিয়মিত কার্যক্রমের ওপরও নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রকল্পের নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে অর্জিত হচ্ছে কিনা, পরিবেশগত মান বজায় থাকছে কিনা এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে পরিচালন ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে কিনা, সেসব বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের প্রয়োজন রয়েছে।


কেসিসির এ উদ্যোগ খুলনার দীর্ঘদিনের বর্জ্য সংকট মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে, পরীক্ষামূলক যন্ত্র চালুর মধ্য দিয়ে প্রকল্পের সক্ষমতা প্রমাণের প্রক্রিয়া মাত্র শুরু হয়েছে। প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে প্ল্যান্টটি কতটা নিয়মিত ও পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আনতে পারছে, তার ওপর। সূত্র : দৈনিক আমাদের সময় 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম