আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ ডিসেম্বর, ২০২২, 10:45 AM
যুক্তরাষ্ট্রে তুষার ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বেড়ে ৩৪
যুক্তরাষ্ট্রে তুষার ঝড় ও মাত্রাতিরিক্ত ঠাণ্ডায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৪ জন। তাছাড়া, ঝড়ের কারণে কয়েকদিন ধরে একপ্রকার থেমে আছে দেশটির জনজীবন। এর মধ্যে কলেরাডোতে মৃতের সংখ্যা চারজন এবং নিউ ইয়র্কে ১২ জনে গিয়ে ঠেকেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঝড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিউ ইয়র্কের বাফেলো শহর। শুধুমাত্র এখানেই মারা গেছেন ৭ জন। পশ্চিম নিউইয়র্কের শহরটি তুষারঝড়ে বিধ্বস্ত। বিদ্যুৎ সংযোগসহ সেখানের জরুরি পরিষেবাগুলি বন্ধ রয়েছে। এবারের ঝড় বাফেলোর ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ও ভয়াবহ বলে আখ্যা দিয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানায়, ঝড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিউ ইয়র্কের বাফেলো শহর ও শুধু এখানেই মারা গেছেন সাতজন। ঝড়ের প্রভাবে বাফেলোর বেশকিছু জায়গা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে রোববার থেকে ওইসব এলাকায় ধীরে ধীরে বিদ্যুৎসংযোগ চালু করা হয়েছে। পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল রোববার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, বাফেলোতে আট ফুট (২.৪ মিটার) তুষারপাত হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট জনজীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। খুব বিপজ্জনক জীবন-হুমকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে বাফেলোর বাসিন্দারা। এলাকার যে কাউকে বাড়ি থেকে বের না হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২০২২ এর ঝড়ের ভয়াবহতা ১৯৭৭ সালের তুষারঝড়কেও অতিক্রম করেছে, যা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে গত পাঁচ দিনব্যাপী এ তুষারঝড় চলছে। এতে বেশ কয়েকটি রাজ্যের ২ লাখের বেশি মানুষ ক্রিসমাসের সকালে বিদ্যুৎ ছাড়াই জেগে উঠে। অনেকেই ছুটির ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত করে বাড়িতেই অবস্থান করছেন। হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে কানাডার কিউবেক এবং ওন্টারিওর মানুষের জনজীবনের ওপরও প্রভাব ফেলেছে এ ঝড়। রোববার কিউবেকের ১২ হাজার গ্রাহকের ঘরে ছিল না বিদ্যুৎ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।