আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ মার্চ, ২০২৬, 10:44 AM
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ররিবার (২৯ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এটিকে কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রীতি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন পারমাণবিক শক্তি হিসেবে দেশের মর্যাদা সমুন্নত করার অঙ্গীকার করেন। একইসঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত করে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের’ জন্য অভিযুক্ত করেন। কেসিএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম কম্পোজিট কার্বন ফাইবার উপাদান ব্যবহার করে তৈরি নতুন আপগ্রেড করা ইঞ্জিনের গ্রাউন্ড জেট পরীক্ষাটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। সংস্থাটি আরও জানায়, ইঞ্জিনটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা ২ হাজার ৫০০ কিলোটন, যা সেপ্টেম্বরে একই ধরনের সলিড ফুয়েল ইঞ্জিনের পরীক্ষায় রিপোর্ট করা প্রায় ১ হাজার ৯৭১ কিলোটন থেকে বেশি। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইঞ্জিনের শক্তি বাড়ানোর এই প্রচেষ্টা সম্ভবত মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করার সম্ভাবনা বাড়াতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক ওয়ারহেড স্থাপনের পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা কোথায় চালানো হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। দেশের পাঁচ বছরব্যাপী সামরিক শক্তি বৃদ্ধি কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই পরীক্ষাটি চালানো হয়। কেসিএনএ জানিয়েছে, এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে ‘কৌশলগত হামলা চালানোর উপায়’ উন্নত করাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম, আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে ছোড়া হবে। কেসিএনএ জানিয়েছে, সর্বশেষ ইঞ্জিন পরীক্ষাটি ‘দেশের কৌশলগত সামরিক শক্তিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া বিভিন্ন ধরনের আইসিবিএম-এর পরীক্ষা চালিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর সম্ভাব্য পাল্লা প্রদর্শন করে। এর মধ্যে সলিড প্রোপেল্যান্টযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে, যা উৎক্ষেপণের আগে শনাক্তকরণকে আরও কঠিন করে তোলে। দেশটির পুরোনো তরল-জ্বালানিযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে উৎক্ষেপণের আগে জ্বালানি ভরতে হয় এবং সেগুলো বেশিক্ষণ চলতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি কার্যকর আইসিবিএম তৈরির আগে উত্তর কোরিয়াকে এখনও প্রযুক্তিগত বাধার সম্মুখীন হতে হবে, যেমন এর ওয়ারহেডগুলো যেন বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের কঠোর পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে তা নিশ্চিত করা। কিন্তু দেশটি তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে পরিমাণ বছর ব্যয় করেছে, তা বিবেচনা করে অন্যরা এই মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। ২০১৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কূটনীতি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার সম্প্রসারণের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির এক কংগ্রেসে কিম ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখলেও, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি প্রত্যাহার করার জন্য ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানান।