ঢাকা ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম
আওয়ামী লীগ নেতা তুষার কান্তি মন্ডলের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর আগস্টে সড়কে ঝরেছে ৪৭৬ প্রাণ: যাত্রী কল্যাণ সমিতি ৬ সংস্কার কমিশনের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে ২৯ লাখ টাকা দিলো ইসি ট্রাফিক সমস্যা ও চাঁদাবাজি বন্ধে ডিএমপিকে একগুচ্ছ নির্দেশনা ঢাবি ও জাবিতে দু’জনকে পিটিয়ে হত্যা, যা বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশকে ২ বিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক ঢাবির হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পিটিয়ে হত্যা যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান ৭ দিনের রিমান্ডে যেসব কারণে দাম কমছে না ইলিশের

মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন মুক্তির বার্তা নিয়ে : প্রধানমন্ত্রী

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ অক্টোবর, ২০২২,  10:15 PM

news image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী এবং সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তির বার্তা নিয়ে। রোববার (৯ অক্টোবর) ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ উপলক্ষ্যে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্ববাসীকে মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। তিনি বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, ন্যায় ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন এবং মানব কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে বিশ্বে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মানবতার মুক্তির দিশারী, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম এবং ওফাতের পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত ১২ রবিউল আউয়াল তথা ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ বিশ্ববাসী বিশেষত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। এ উপলক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন শান্তি, মুক্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য রাহমাতুল্লিল আ’লামীন’ তথা সারা জাহানের রহমত হিসেবে। নবী করিম (সা.)-কে বিশ্ববাসীর রহমত হিসেবে আখ্যায়িত করে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতরূপে প্রেরণ করেছি’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বশান্তির অগ্রনায়ক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, নাগরিকদের মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ নানা দিক বিবেচনা করে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন মানব ইতিহাসের প্রথম প্রশাসনিক সংবিধান ‘মদিনা সনদ’। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)- এর অনবদ্য ভূমিকার আরেকটি অনন্য স্মারক হুদায়বিয়ার সন্ধি। বাহ্যিক পরাজয়মূলক হওয়া সত্ত্বেও কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে তিনি এ সন্ধিতে স্বাক্ষর করেন। তাঁর অমিত সাহস, ধৈর্য ও বিচক্ষণতা তখনকার মানুষকে যেমন বিমুগ্ধ করে, তেমনি অনাগত মানুষদের জন্যও শান্তি প্রতিষ্ঠার আদর্শ ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর শান্তিপূর্ণ ‘মক্কা বিজয়’ মানব ইতিহাসের এক চমকপ্রদ অধ্যায়। কার্যত তিনি বিনা যুদ্ধে, বিনা রক্তপাতে ও বিনা ধ্বংসে মক্কা জয় করেন। শত অত্যাচার-নির্যাতন ও যুদ্ধ করে আজীবন যে জাতি নবী করিম (সা.)-কে সীমাহীন কষ্ট দিয়েছে, সেসব জাতি ও গোত্রকে মক্কা বিজয়ের দিন তিনি অতুলনীয় ক্ষমা প্রদর্শন করেন এবং তাদের সঙ্গে উদার মনোভাব দেখিয়ে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। ক্ষমা ও মহত্ত্বের দ্বারা মানুষের মন জয় করে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার এমন নজির বিশ্বে দুর্লভ। তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারিসহ আজকের দ্বন্ধ-সংঘাতময় বিশ্বে প্রিয়নবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে। তাই ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর এই দিনে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহ তথা বিশ্ববাসীর শান্তি মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। মহান আল্লাহ আমাদেরকে মহানবী (সা.)- এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ্ যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দান করুন। সূত্র: বাসস

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম