ঢাকা ০১ নভেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ ‘ওদের স্পিন ভালোভাবে সামলানো দরকার ছিল, পারিনি’ রাজধানীতে আজ থেকে ৬ রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু মার্কিন সেনার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নারীকে নিপীড়নের অভিযোগ, তদন্ত হস্তান্তর নিয়ে বিতর্ক মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ সরকারের অস্ত্র হাতে ভিডিও ভাইরাল, ‘এসবিএস’ গ্রুপের ৪ সদস্য গ্রেফতার শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন শেষ মুহূর্তের গোলে ডর্টমুন্ডের সঙ্গে ড্র বায়ার্নের শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ, এপস্টেইন-কাণ্ডে মামলায় বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

মীম আক্তারকে কেন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

#

১৪ ডিসেম্বর, ২০২১,  6:54 PM

news image

পুলিশ কনস্টেবল পদে মেধা তালিকায় শীর্ষে থেকেও ভূমিহীন হওয়ায় খুলনার মীম আক্তারকে কেন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) আদালত এ বিষয়ে আদেশ দেবেন। পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে সাধারণ নারী কোটায় মেধা তালিকায় প্রথম হন মীম আক্তার। কিন্তু জেলায় জমি না থাকায় তার চাকরি হয়নি। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। এসময় আদালত বলেন, ‘ঠিকানা না থাকলে চাকরি হবে না, এটা হতে পারে না। কোথায় তারা উৎসাহ দেবে সেটা না করে নিরুৎসাহিত করছে। এমনটা হতে পারে না।

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ মন্তব্য করে আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানাতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পত্রিকার প্রতিবেদন উপস্থাপন করে শুনানিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আনিচুর রহমান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমারা। মীমের আবেদনপত্র সূত্রে জানা যায়, খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার ৩ নম্বর আবাসিক এলাকার ১ নম্বর রোডের ডা. বাবর আলীর বাড়ির বাসিন্দা তিনি। তারা সেই বাসায় ভাড়া নিয়ে থাকেন। তার বাবা মো. রবিউল ইসলাম খুলনার বয়রা ক্রস রোডে ভাড়ায় ছোট্ট একটি দোকান নিয়ে লেপ-তোশকের ব্যবসা করেন। বেডিং হাউস নামে একটি দোকানও রয়েছে তার। মীম আক্তার বলেন, পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে সাধারণ নারী কোটায় আবেদনের পর ২৫ অক্টোবর খুলনা শিরোমনি পুলিশ লাইন্সে শারীরিক যোগ্যতা যাচাই হয়। ২৫, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর তিনদিন ধরে চলা শারীরিক যোগ্যতা যাচাইয়ে আমি উত্তীর্ণ হই। এরপর ২৮ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষা হয় খুলনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এতে উত্তীর্ণ হই। এরপর মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হই। ফলাফলে জানতে পারি আমি মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছি। তিনি আরও বলেন,

এরপর খুলনা জেলা পুলিশ লাইন্সে সাধারণ মেডিকেল পরীক্ষা হয়। সেখানেও উত্তীর্ণ হয়েছি। তারপর ১২ নভেম্বর রাতে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে। সেখানে ১৩ নভেম্বর সকালে মেডিকেল পরীক্ষা হয়। তারপর বাড়িতে ফিরে আসি। সেখান থেকে বলা হয়েছিল, পরবর্তীতে ফলাফল জানানো হবে। এরপর পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু হয়। সোনাডাঙ্গা থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও সিটিএসবি থেকে বাড়িতে তদন্তে আসে। তাদের কাছে ভূমিহীন সার্টিফিকেট জমা দিয়েছি। তারা বলেছিলেন, ৫ ডিসেম্বর আমাকে জানাবেন। ফোন দিয়ে ৭ ডিসেম্বর জেলা পুলিশ লাইন্সে ফিঙ্গার প্রিন্টের জন্য ডাকা হয়। সেখানে পাঁচ আঙুলের ছাপ দিয়ে এসেছিলাম। সেখান থেকে বলেছিল, পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর থেকে আর কিছুই জানায়নি। মীম বলেন, যারা ফিঙ্গার দিয়ে এসেছিল তাদের ফোন দিয়ে চাকরির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু আমাকে কিছু না জানানোর কারণে আমি ১০ ডিসেম্বর জেলা পুলিশ লাইন্সে গিয়েছিলাম। তারা কিছুই জানেন না জানিয়ে এসপি স্যারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এরপর ১১ ডিসেম্বর খুলনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গিয়েছি। পুলিশ সুপার স্যারকে পাইনি। ২ থেকে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির আহম্মেদ স্যারের সঙ্গে দেখা হয়েছে। স্যার বলেছেন, তোমার সব ঠিক আছে। তবে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় তোমার চাকরিটা আমরা দিতে পারছি না। কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে এসেছি। ভূমিহীন বলে আমার চাকরি হবে না। আমার জন্ম খুলনায়। জন্মসনদও খুলনা সিটি করপোরেশনের।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম