ঢাকা ১২ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু ‘তোমাদের উদ্দেশে কিছু বলতে চাই’—অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মন্ত্রী জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আগ্রহী সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছোট করার চেষ্টা করছে স্বাধীনতাবিরোধীরা: রিজভী দেশে প্রথমবার নৌযান শুমারি, শুরু ২০ আগস্ট পঞ্চগড়ে ওএমএস কার্যক্রমে ভয়াবহ অনিয়ম: চালান ছাড়াই চাল পাচার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত রাষ্ট্রপতি পদে এখনও ঠিক হয়নি বিএনপি প্রার্থী : চিফ হুইপ ভূমধ্যসাগর থেকে ১৫ বাংলাদেশি উদ্ধার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার পেল চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি

মাকে হারালেন অস্কারজয়ী অভিনেতা দুই ভাই

#

বিনোদন ডেস্ক

২৬ জুলাই, ২০২৬,  8:50 AM

news image

হলিউডের দুই বিখ্যাত তারকা অভিনেতা ও নির্মাতা বেন অ্যাফ্লেক এবং কেসি অ্যাফ্লেকের মা ক্রিস্টোফার অ্যান অ্যাফ্লেক ৮৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের (প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার) সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে গত ২ জুন নিজ বাসভবনে ঘুমন্ত অবস্থায় শান্তিতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। 


যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‌‘দ্য বস্টন গ্লোব’-এ শুক্রবার প্রকাশিত একটি শোকবার্তায় (ওবিচুয়ারি) নিশ্চিত করা হয়েছে যে, জীবনের শেষ দিনগুলোতে পরিবার ও নাতি-নাতনিদের সান্নিধ্যে থেকে প্রশান্তির সঙ্গেই তিনি বিদায় নিয়েছেন। খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বিনোদন মাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


দ্য হলিউড রিপোর্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ক্রিস্টোফার অ্যানের শরীরে প্রাণঘাতী অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার ধরা পড়ে এবং চিকিৎসকরা জানান যে তার হাতে আর মাত্র ছয় মাস সময় রয়েছে। মারণব্যাধি চিহ্নিত হওয়ার পর তার জীবনের সবচেয়ে বড় ইচ্ছা ছিল মৃত্যুর আগে নিজের নাতনির হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান নিজ চোখে দেখে যাওয়া। অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি তা পূরণও করতে পেরেছিলেন; গত ২০২৬ সালের ৩১ মে স্বজনদের সঙ্গে উপস্থিত থেকে নাতনির সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপভোগ করেন তিনি এবং এর ঠিক দুদিন পরেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে শান্তির ঘুমে ঢলে পড়েন।


১৯৪২ সালে নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করা ক্রিস্টোফার অ্যান কেবল দুই সফল তারকার জননীই ছিলেন না, বরং তিনি নিজে ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী প্রথম দিকের র‍্যাডক্লিফ নারীদের একজন। সারা জীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এই মানবতাবাদী নারী আশির দশকে ‘ফ্রিডম সামার’-এর অংশ হিসেবে মিসিসিপিতে নিরক্ষর মানুষদের বর্ণমালা শেখাতেন এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার ছিলেন। কর্মজীবনে দীর্ঘ ৩৫ বছর পাবলিক স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যান ২০০৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পক্ষে প্রচারণা চালানো থেকে শুরু করে ফিলিস্তিনে ওয়াটার জাস্টিসের পক্ষেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।


হলিউডের শীর্ষ তারকাদের সারিতে দুই ভাই বেন ও কেসি অ্যাফ্লেকের জায়গা করে নেওয়ার পেছনে তাদের মায়ের অবদান ছিল অপরিসীম। ১৯৮৪ সালে তৎকালীন স্বামী টিমোথি অ্যাফ্লেকের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ১৯৭২ সালে জন্ম নেওয়া বেন এবং ১৯৭৫ সালে জন্ম নেওয়া কেসিকে একাই পরম স্নেহে বড় করেন অ্যান। শৈশব থেকেই নাট্যমঞ্চ ও শিল্পের প্রতি দুই ভাইয়ের ভালোবাসা তৈরির মূল কারণ ছিলেন তাদের মা-বাবা। বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘গুড উইল হান্টিং’-এর চিত্রনাট্যের জন্য ১৯৯৮ সালে যখন বেন অ্যাফ্লেক প্রথম অস্কার পুরস্কার জেতেন, তখন সেই ঝলমলে লালগালিচায় আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নিতে নিজের মাকেই সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। 


মৃত্যুর সময় তিনি দুই ছেলে ছাড়াও পাঁচ নাতি-নাতনি—কেসির দুই সন্তান ইন্ডিয়ানা ও অ্যাটিকাস এবং বেনের তিন সন্তান ভায়োলেট, ফিন ও স্যামকে রেখে গেছেন ক্রিস্টোফার অ্যান। সূত্র: ফক্স নিউজ

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম