নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, 1:16 PM
ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ও গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।তিনি বলেছেন,‘আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, জুলাই চার্টার তৈরি হয়েছে, ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ।’ তিনি আরও বলেন,‘তরুণরা রাজনীতি করছে, আমি আশা করি তাদের অনেকেই নির্বাচনে জয়ী হবে।’ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ড. ইউনূস বলেন, ‘শিক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখলে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সৃজনশীলতা জাগ্রত করা এবং তাকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখানো।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উদ্যোক্তা মানসিকতা, কল্পনাশক্তি ও নতুন কিছু তৈরির সাহস এই গুণগুলো শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে বিকশিত হওয়া জরুরি।’ দক্ষিণ এশিয়া একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভাজন ও ভুল নীতির কারণে এই অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলো অনেক সময় কাজে লাগানো যায় না। শিক্ষা হতে পারে সেই শক্তি, যা এই অঞ্চলের তরুণদের পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করে তুলবে।’ এ সময় চাকরি খোঁজার থেকে কেন উদ্যোক্তা হতে পারছি না-এ প্রশ্ন রেখে তরুণদের স্বপ্নবাজ হওয়ার আহ্বান জানান ড. ইউনূস। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত দেশের ইউজিসি ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও গবেষক, কূটনীতিকরা উপস্থিত আছেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। ইউজিসি আরও জানায়, দেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করা এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা কমিশন নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট আটটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে।