নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, 3:15 PM
টেকনাফে গুলিবিদ্ধ হুজাইফাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত
মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছুটে আসা গুলিতে আহত টেকনাফের ৯ বছরের শিশু হুজাইফা আফনানের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড এ সিদ্ধান্ত নেয়। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হুজাইফার চিকিৎসার বিষয়ে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড বসেছে। মেডিকেল বোর্ড উন্নত চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে করে সেখানে পাঠানো হবে। মস্তিষ্কের চাপ কমাতে খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে হুজাইফা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের সন্তান। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে রাতে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাতে অস্ত্রোপচার করা হলেও গুলি বের করা যায়নি। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকদিন ধরে বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণ, মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণ থামছে না।
মংডু টাউনশিপের আশপাশে সরকারি জান্তা বাহিনী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থান লক্ষ্য করে আক্রমণ জোরদার করেছে। একই সময়ে, স্থলভাগে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। এ কারণে সীমান্তবর্তী পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। ওপারের বিস্ফোরণে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী টেকনাফের গ্রামগুলো কেঁপে উঠছে। সংঘর্ষ ও গোলার আওয়াজে লোকজনের ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের ও নাফ নদ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ সোমবার জানান, শনিবার রাতে গোলাগুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কিত ছিল। আমরা সবাই ঘরের ভেতরে থাকতাম। রোববার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় আমি ঘর থেকে বের হই। কিছুক্ষণ পর আমার ভাতিজিও খেলা করতে বের হয়। সে যখন সড়কের কাছে চলে আসে, ঠিক তখনই সীমান্তের ওপার থেকে আবার গোলাগুলি শুরু হয়। এক গুলি তার মুখের পাশ দিয়ে ঢুকে মাথায় লাগে। সূত্র : কালবেলা