ভূমিকম্পের আঘাতের পর ভেনেজুয়েলায় ২০টির বেশি আফটারশক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ জুন, ২০২৬, 3:58 PM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ জুন, ২০২৬, 3:58 PM
ভূমিকম্পের আঘাতের পর ভেনেজুয়েলায় ২০টির বেশি আফটারশক
ভেনেজুয়েলায় স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় আঘাত হেনেছে শক্তিশালী দু’টি ভূমিকম্প। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের মধ্যে হওয়া এই দুই ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে অনেক ভবন। আশঙ্কা করা হচ্ছে বহু মানুষের প্রাণহানিরও। জানা গেছে, প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর থেকে ভেনেজুয়েলায় ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে বলে জানায় বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল, যার মধ্যে আছে লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো এবং ফ্যালকন।জানা যায়, প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে। এর ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ৭ দশমিক ৫ ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ভেনেজুয়েলার ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ অনেক শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে।
ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজতে উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন। এদিকে, দুর্যোগ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ রাজধানী কারাকাসের প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস স্থগিত এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জরুরি ভিত্তিতে মোতায়েন করেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, ‘ভূমিকম্পের ঘটনায়অনেক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা ‘ভয়াবহ’।
১৮২১ সালের কারাবোবোর যুদ্ধ স্মরণে জাতীয় ছুটি উদযাপনের সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬:০৪ মিনিটে ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে দেশটির অন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের আহতদের চিকিৎসায় সহায়তা করার জন্য অবিলম্বে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেশী কলম্বিয়ার বোগোটা থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তেরেসা বো জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কারাকাসে, বিশেষ করে আলতামিরা জেলায়। এখানে জরুরি সেবাকর্মীরা একটি ২২তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধার করেছে। ক্ষয়ক্ষতির মোট পরিমাণ এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এখনও নিহত ও আহতদের বয়স, লিঙ্গ বা অবস্থানভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।
কারাকাসের আলতামিরা ও এল প্যারাইসো এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া লা গুইরা এবং মধ্য ভেনেজুয়েলার অন্যান্য এলাকাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের অনেক ভবনই অপরিবর্ধিত ইটের গাঁথুনি ও অ্যাডোবি (কাদামাটি ও খড়ের মিশ্রণে তৈরি) উপকরণ দিয়ে নির্মিত, যা শক্তিশালী ভূমিকম্পে সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
সংস্থাটির সবশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার থেকে ১০ হাজারে পৌঁছানোর আশঙ্কা ৩৯ শতাংশ এবং ১০ হাজার থেকে ১ লাখে পৌঁছানোর আশঙ্কা ৩৭ শতাংশ। তবে এগুলো জরুরি পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির জন্য ব্যবহৃত পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত হতাহতের সংখ্যা নয়।