পার্বত্য চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্র: সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ
১২ আগস্ট, ২০২৬, 10:01 PM
NL24 News
১২ আগস্ট, ২০২৬, 10:01 PM
পার্বত্য চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্র: সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ
প্রিয় দেশবাসী পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তার, নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী হওয়ায় অঞ্চলটির প্রায় ১৩,২৯৪ বর্গকিলোমিটার (যা বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১০%) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। সশস্ত্র সংগঠন সমূহ চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, গুম, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য চোরাচালান সহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছে। এছাড়া, সোশাল মিডিয়ার গুজব, এনজিও এবং আইএনজিও এর সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা, প্রবাসী উপজাতিদের দেশ বিরোধী প্রচারণা, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প প্রত্যাহার, পার্শ্ববর্তী দেশের মদদ এ সকল নানাবিধ কারণে পাহাড় অশান্ত।
সশস্ত্র গ্রুপগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামে ৪১টি খাত হতে বছরে ১০০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে। আত্মগোপনে থাকা মাইকেল চাকমার আবির্ভাব হওয়ার পর (০৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী) পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন অস্ত্র চোরাচালান সব কিছু বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছরে জেএসএস এবং ইউপিডিএফ এর আন্তঃকোন্দলে ৪১ জনের মৃত্যু (নিরীহ জনগণসহ) হয়েছে। এছাড়া, জেএসএস ও ইউপিডিএফ এর মধ্যে গত ২ বছরে সংঘর্ষে প্রায় ২৮,৫০০ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়েছে। বিগত ২ বছরে ১০৬ জন উপজাতি এবং বাঙালী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে অপহৃত হয়েছে। কিন্তু এতসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অন্যতম মাস্টার মাইন্ড মাইকেল চাকমা ঢাকার বুকে ঘুরে বেড়ালেও তাকে সরকার আটক করছে না। এমনকি তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলায় রাঙামাটি আদালত ৭ বছরের কারাদণ্ড দিলেও কোন এক অজ্ঞাত কারণে সরকার তাকে আটক করছে না।
গভীর উদ্বেগের বিষয় এই যে, গত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং ভারতে বসবাসকারী জো সম্প্রদায়ের দ্বারা এক জাতি গঠনের জন্য মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী লালদুহোমা তার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অপরদিকে, ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে, চীন রাজ্যের ০২টি প্রতিরোধ গোষ্ঠী মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ কমাতে এবং চিন জাতীয় পরিষদ গঠনের জন্য একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মিজোরাম রাজ্যের এমপি মিঃ ভানলালভেনা সিএনএফের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন এবং তাদের ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের আহ্বান জানান। এই সমস্ত কার্যকলাপ ভারতের সম্প্রসারণের এজেন্ডা নির্দেশ করে।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় থাকলেও পাহাড়ের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সশস্ত্র তৎপরতা, অস্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন পক্ষের স্বায়ত্তশাসন ও 'আদিবাসী' পরিচয়কেন্দ্রিক দাবির প্রেক্ষাপটে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করছে-তা জাতির সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। পাহাড়ের সকল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের আরও দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী ভূমিকা প্রয়োজন।
একইভাবে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলকে শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোরও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান, নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা জরুরি। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ও ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে এক্স-ফোর্সেস এসোসিয়েশন সরকারের প্রতি কয়েকটি নিম্নোক্ত জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে:
১। সশস্ত্র গোষ্ঠীকে যে কোন মূল্যে প্রতিহত করা।
২। শান্তিচুক্তি রিভিউ করা।
৩। ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, ইয়েন ইয়েন, প্রসীত বিকাশ খীসা, মাইকেল চাকমা, নাথান বম, সন্তু লারমাসহ অন্যান্যদের
রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের জন্য আইনের আওতায় আনা।
৪। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল গোলযোগপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনীর স্থায়ী ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন এবং বিজিবির বিওপি বাড়ানো।
৫। পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা জাতির সামনে স্পষ্ট করা।
৬। বাঙালীদের পাহাড়ে সমঅধিকার নিশ্চিত করা।
৭। উপজাতিরা পাহাড়ে এবং সমতলে জায়গা কিনতে পারলে বাঙালীরাও পাহাড়ে জায়গা কিনতে পারবে এই আইন প্রণয়ন
করা।
৮। উপজাতিদের আয়করের অন্তর্ভুক্ত করা।
৯। বিদেশের মাটিতে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা।
সর্বোপরি, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সরকারের অবস্থান হতে হবে সুস্পষ্ট ও দৃঢ়। জাতীয় স্বার্থ ও
সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।
-বার্তা প্রেরক