ঢাকা ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
প্রায় অর্ধকোটি মানুষকে নিয়ে সরকারের বড় পরিকল্পনা বাঁধনের সঙ্গে যা হয়েছে তা অমার্জনীয় ও নিন্দনীয়: ডেপুটি স্পিকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুরু হচ্ছে ৩ মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান এআইয়ের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে ১০ লাখ নতুন চাকরি সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার বিশ্বে পরোক্ষ ধূমপানে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু ‘শেখ হাসিনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই, তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে’ দুই শিশুর পেট থেকে ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার ধর্মীয় সম্প্রীতি ভাঙতে বারবার চক্রান্ত করা হচ্ছে: রিজভী ধর্মীয় সম্প্রীতি ভাঙতে বারবার চক্রান্ত করা হচ্ছে: রিজভী

ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার জন্য নীতিমালা প্রকাশ করলো: ডিএনসিসি

#

২১ জানুয়ারি, ২০২৬,  4:36 AM

news image

মো. জাহিদুর রহমান: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ভাড়াটিয়া এবং বাড়িওয়ালাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় একটি নতুন ‘বাড়িভাড়া নির্দেশিকা’ প্রকাশ করলো ডিএনসিসি।

বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর আলোকে প্রস্তুতকৃত এই নির্দেশিকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় রাজধানীর গুলাশান-২ এ অবস্থিত নগর ভবনের লেভেল-৬ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করলো ডিএনসিসি। 

সংবাদ সম্মেলনে নির্দেশিকাটি উপস্থাপন করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। এসময় নির্দেশিকার বিভিন্ন দিক বিস্তারিত তুলে ধরেন।

বাড়াটিয়া ও বাড়িওলার সাথে প্রাক আলোচনা সাপেক্ষে ছাদ, মূল গেটের চাবি প্রদান, বাড়িতে ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময় প্রবেশাধিকার থাকবে। ভাড়াটিয়া ওঠার দুই বছরের আগে বাড়া বৃদ্ধি না করা ও বাসা ভাড়া বাড়ির বাজার মূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি ভাড়া নিতে পারবে না এমন সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সহ ১৬ টি বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। 

ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত নির্দেশিকাঃ

১। বাড়ির মালিক অবশ্যই তার বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করে রাখবেন।

২। বাড়িতে ইউটিলিটি সার্ভিসেস (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) এর নিরবিচ্ছিন্ন কানেকশন, দৈনিক গৃহস্থালি বর্জ্যকালেকশন সহ অনন্যা সকল সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করতে হবে। এর কোন ব্যত্যয় বা কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে ভাড়াটিয়া সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালাকে অবগত করবেন এবং বাড়িওয়ালা অতিসত্ত্বর সেই সমস্যা সমাধান করবেন।

৩। বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া (বাড়িওয়ালার প্রাক অনুমোদন সাপেক্ষে) বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং বাড়ির সামনের উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়ন (ফুল/ফল/সবজি) করবেন।

৪। সাম্প্রতিককালে ভবনে অগ্নিকান্ড, ভূমিকম্প, ইত্যাদি নানা ধরণের মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে দূর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে, যার ফলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানীসহ সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায়, নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা তার প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে ছাদের ও মূল গেইটের চাবি শর্তসাপেক্ষে প্রদান করবেন।

৫। ভাড়াটিয়া মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া প্রদান করবেন। বাড়িওয়ালাদের অবশ্যই প্রমাণ কপি হিসেবে ভাড়াটিয়াকে প্রতিমাসে মাসিক ভাড়ার লিখিত রশিদ প্রদান করতে হবে এবং প্রতি মাসের ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়া প্রাপ্তির স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রশিদ সংগ্রহ করবেন।

৬। বাড়িতে ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাড়িওয়ালা কোন পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই ভাড়াটিয়াকে অবগত করবেন এবং বাস্তবায়নের পূর্বে মতামত গ্রহণ করবেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে যুক্তি/ন্যায় সঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৭। মানসম্মত ভাড়া কার্যকরী হবার তারিখ হতে দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ভাড়া বৃদ্ধির সময় হবে জুন-জুলাই।

৮। দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়ির ভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছর পর মানসম্মত। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা স্বাপেক্ষে ভাড়ার পরিবর্তন করা যাবে।

৯। নির্দিষ্ট সময় ভাড়াটিয়া ভাড়া প্রদান করতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করবেন এবং নিয়মিত ভাড়া প্রদানের জন্য তাগাদা দিবেন। তাতে ও কাজ না হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে সমস্ত বকেয়া প্রদান করে ২ মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার জন্য লিখিত সতর্কতা মূলক নোটিশ প্রদান করবেন এবং ডাড়াটিয়ার সাথে পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।

১০। আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে, বাড়ি ভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে হলে দুই মাসের নোটিশ দিয়ে উভয় পক্ষ ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।

১১। মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা ও ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ি ভাড়ার বাজার মূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে না। 

১২। বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেয়া হলো এবং করণীয় কী, সে সব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়বেন তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

১৩। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ১-৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেয়া যাবে না।

১৪। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ওয়ার্ড ভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার বিবাদের সালিশে থাকবেন।

১৫। যেকোনো সমস্যা ওয়ার্ড/ জোন ভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতির আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যদি সমাধান না হয়, পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জানাতে হবে।

১৬। ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত নির্দেশিকা ভাড়াটিয়া এবং বাড়িওয়ালাদের মেনে চলার জন্য সচেতন করা, এ ব্যাপারে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে সিটি কর্পোরেশন এর জোন ভিত্তিক মত বিনিময় ও আলোচনা সভা করা।

প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ আরও বলেন,  মহানগর এলাকায় ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাসের জন্য এই নীতিমালা করছে। যা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়েব সাইটে প্রচার করা হবে।  প্রত্যেক ওয়ার্ড, জোন, সোসাইটি, মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনাগুলোতে  প্রচার করা হবে। এছাড়াও ডিজিটাল ফটোকার্ড আকারে বিলবোর্ডে প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম