ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের চোখ এড়াতে পর্দায় ঢেকে দেওয়া হলো দিল্লির বস্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 11:04 AM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 11:04 AM
ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের চোখ এড়াতে পর্দায় ঢেকে দেওয়া হলো দিল্লির বস্তি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে থাকা বস্তি ও নিম্নআয়ের মানুষের বসতিগুলো আড়াল করতে বড় পর্দা ও অস্থায়ী ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে।
দক্ষিণ দিল্লির বসন্ত বিহারের কাছে মুনিরকা এলাকার কয়েকটি বস্তি এভাবে ঢেকে দেওয়ার ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। দলটির এমপি পবন খেরার অভিযোগ, দারিদ্র্য দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার বদলে বিদেশি অতিথিদের কাছ থেকে ভারতের আর্থসামাজিক বাস্তবতা লুকানোর চেষ্টা করছে সরকার।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করে পবন খেরা লেখেন, ‘বিজেপির কাছে সব হিজাবই অগ্রহণযোগ্য নয়। মোদির ব্যর্থতাকে যে হিজাব আড়াল করে, সেটিই তাদের সবচেয়ে প্রিয়।’
বস্তি আড়াল করার এমন ঘটনা ভারতে এবারই প্রথম নয়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় আহমেদাবাদে এবং ২০২৩ সালে জি২০ সম্মেলনের সময়ও বস্তি আড়াল করতে পর্দা ব্যবহারের ঘটনা আলোচনায় এসেছিল।
২০২৩ সালে জি২০ সম্মেলনের আগে দিল্লিতে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ওই সময় এক হাজার ৬০০টির বেশি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন তথ্যে বলা হয়, দিল্লিতে ৭৮টি উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার ২০৫ মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
দিল্লির বাস্তবতা আড়াল করা নিয়ে প্রশ্ন
ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে বস্তি ঢেকে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি দিল্লির সামাজিক বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, শহরের প্রশস্ত সড়ক ও সাজানো এলাকাই দিল্লির পুরো চিত্র নয়। এই শহরের অর্থনীতি ও কর্মজীবনের সঙ্গে বস্তিতে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক মানুষও যুক্ত।
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, দিল্লির ১০ শতাংশের বেশি মানুষ বস্তিতে বসবাস করেন। ২০২৩ সালে রাজ্যসভায় জানানো হয়েছিল, রাজধানীর প্রায় ৬৫০টি বস্তিতে ১৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করেন।
এদিকে ব্রিকসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোটের সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন কংগ্রেসের আরেক এমপি মনীশ তিওয়ারি। তাঁর মতে, ব্রিকস, আসিয়ান, কোয়াড ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিওয়ারি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। তবে তার জায়গায় এখনো নতুন কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তাই বিভিন্ন জোটের বৈঠককে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত।
তিনি বলেন, বৈঠকের তাৎক্ষণিক ফলাফলের চেয়ে দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনার প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই কার্যকর একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে।
সূত্র: দ্য হিন্দু