ব্রাজিল ফেবারিট, তবে আমরাও হারাতে পারি: নরওয়ে কোচ
স্পোর্টস ডেস্ক
০৫ জুলাই, ২০২৬, 11:15 AM
স্পোর্টস ডেস্ক
০৫ জুলাই, ২০২৬, 11:15 AM
ব্রাজিল ফেবারিট, তবে আমরাও হারাতে পারি: নরওয়ে কোচ
নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ মহরণে আগামী ৬ জুলাই ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। কাগজের কলমে কিংবা শক্তিমত্তায় সেলেসাওরাই যে যোজন যোজন এগিয়ে, তা মানতে দ্বিধা নেই নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সোলবাকেনের।
তবে বিশ্বফুটবলের এই পরাশক্তিকে সমীহ করলেও ভয়ের কোনো ভূত মাথায় চড়াতে নারাজ তিনি।
নরওয়ে কোচ সোলবাকেন বিশ্বাস করেন, ফুটবল সব সময় চিরন্তন হিসাব মেনে চলে না। আর নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিতে পারলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রূপকথা লিখতেই পারে তার দল।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রতিপক্ষকে ফেবারিটের তকমা দিয়েও নরওয়ে কোচ এক বুক আত্মবিশ্বাসের কথাই শোনালেন, ‘ব্রাজিল এখনো ফেবারিট। তবে তারা হয়তো আগের মতো সেই একচ্ছত্র ফেবারিট আর নয়। সম্ভাবনাকে শতকরা হিসাবে মাপা কঠিন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা ব্রাজিলকে হারাতে পারি। তবে সেটা করতে হলে মাঠে আমাদের শতভাগ উজাড় করে খেলতে হবে। ব্রাজিলকে হারানোর সুযোগ আমাদের অবশ্যই আছে।’
গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে দারুণ ছন্দে থাকা নরওয়ে এবারই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখে। আর সেই পরীক্ষায় কার্লো আনচেলত্তির আক্রমণভাগের ‘ত্রাস’ সামলানোকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন সোলবাকেন।
জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয়ার্ধের রণকৌশল মাথায় রেখে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড লাইনের তিন খেলোয়াড় যে ভিন্ন ভিন্ন কম্বিনেশন তৈরি করবে, আমরা সেটি কতটা সামলাতে পারি, তা দেখতে হবে। তারা চারজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়েও খেলতে পারে, যেমন জাপানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছিল। তাদের সেই গতির সঙ্গে আমরা কতটা তাল মিলিয়ে চলতে পারি, সেটাই দেখার বিষয়।’
নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। চার ম্যাচে এই ইউরোপিয়ান দলকে একবারও হারাতে পারেনি তারা: দুটি হার ও দুটি ড্র। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ২-১ গোলে হেরেছিল। বেবেতো ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোল করেন। তোরে আন্দ্রে ফ্লো ও কেতিল রেকদাল নরওয়েজিয়ানদের হয়ে গোল পান।
নরওয়ে বিশ্বকাপে জেতার পাশাপাশি ব্রাজিলকে আরেকবার হারিয়েছে প্রীতি ম্যাচে। অন্য দুটি ড্রও প্রীতি ম্যাচে হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে ১-১ গোলে ড্র করেছিল দুই দল। নরওয়ের আরেকটি জয় ১৯৯৭ সালের ৩০ মে ৪-২ গোলে। শেষবার তারা মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৬ সালের আগস্টে। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।
যদি নরওয়ে শেষ হাসি হাসে, তবে কি সেটা এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটন হবে? কোনো রাখঢাক না রেখেই নরওয়েজিয়ান বস উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমারও মনে হয়, সেটি হলে বড় একটি চমকই হবে।’
মাঠের লড়াইয়ে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—আর্লিং হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের দ্বৈরথের ওপর। তবে ব্যক্তিগত লড়াইকে ছাপিয়ে দলগত রসায়নকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সোলবাকেন।
তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রক্ষণজুটি অন্যতম শক্তিশালী। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনিয়োস দুজনই বিশ্বমানের ডিফেন্ডার। তবে এটি শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচ। নিঃসন্দেহে মাঠে কিছু ব্যক্তিগত দ্বৈরথ জমবে, কিন্তু দিনশেষে এটি ব্রাজিল বনাম নরওয়ের লড়াই।’