NL24 News
২৬ জুলাই, ২০২৩, 8:56 PM
বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের আন্দোলন চলছে।
শরীফুল ইসলাম আবীরঃ ১১ই জুলাই থেকে বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করণের জন্য শিক্ষকদের আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চলমান রয়েছে। আজ ১৬ তম দিনেও হাজার হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। সরকারি স্কুল ও সরকারি অন্যান্য দপ্তরের ন্যায় সকল সুযোগ সুবিধার দাবি করে আসছেন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা। তাদের দাবি সরকারি স্কুলের ন্যায় তাদেরকে সকল সুযোগ সুবিধা দিতে হবে এতে কোন বৈষম্য মানা চলবে না। একজন বেসরকারী স্কুলের শিক্ষক চাকরির শুরুতে ১২৫০০ টাকা মূল বেতন, ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, ২৫% উৎসব ভাতা পান অন্যদিকে সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা চাকরির শুরুতেই ১৬০০০ টাকা বেতন, ৪০-৬০% বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, ১০০% উৎসব ভাতা সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাছাড়া বেসরকারি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের চেয়ে সরকারি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক এক গ্রেড উপরে অবস্থান করেন। কিন্তু একই শিক্ষানীতি , কারিকুলাম, সিলেবাস ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। এই মুহূর্তে জাতীয়করণ করা সম্ভব কিনা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ সরকারের পক্ষে বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক নেতা শেখ কাউসার আহমেদ জানান, অবশ্যই তা সম্ভব এবং বেসরকারি স্কুলের বাৎসরিক সকল আয় সরকারি কোষাগরে জমা নিলে এই ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সকল চাহিদা পূরণের পরেও কয়েক কোটি টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে যা শিক্ষা বান্ধব যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার ব্যবহার করতে পারবেন। তিনি আরো জানান বেসরকারী শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ হলে শুধু শিক্ষকরাই নয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও উপকৃত হবেন। আগামী ২৭শে জুলাই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পৃথক পৃথক কর্মসূচি থাকার কারণে শিক্ষকদের এই আন্দোলন আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার বিকেল ২ টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে শিক্ষক নেতারা জানেন আন্দোলন চলমান রাখার স্বার্থে ৬০ জন শিক্ষক নেতা প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করবেন এবং শুক্রবার ২ টার পর থেকে আন্দোলন আবার বেগবান হবে। ইতিমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের দাবিগুলো বিবেচনা করবেন বলে শিক্ষকদেরকে শ্রেণীকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও শিক্ষকরা শিক্ষামন্ত্রীর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে গত ১৬ দিন থেকে এই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে জাতীয়করণের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা নিয়েই শিক্ষকরা শ্রেণীকক্ষে ফিরতে চান।