ঢাকা ০১ মে, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেফতার করা প্রয়োজন: নাহিদ ইসলাম প্রথমবারের মতো নারী পুলিশ সুপার পাচ্ছে ঢাকা জেলা কবে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় আসছে জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘বিএনপির সময়ে শেয়ারবাজার লুটপাটের সুযোগ ছিল না, এবারও থাকবে না’ অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১২ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি বিরোধী দলের আপত্তির মুখেই দুই বিল পাশ ২৩৮৬৫টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, সংসদে আইনমন্ত্রী ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী

বৃষ্টির দিনেই খিচুড়ি খাওয়ার কারণ কী

#

লাইফস্টাইল ডেস্ক

২১ মে, ২০২৫,  11:04 AM

news image

বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খেতে কমবেশি সবাই ভালোবাসেন। চাল-ডালে ফুটিয়ে খিচুড়ি সহজেই রান্না করা যায়। আর তাই বৃষ্টি দেখলেই হাঁড়িতে যে কেউই বসিয়ে দিন খিচুড়ি। এটি একই সঙ্গে যেমন পেট ভরায়, তেমনই সুস্বাদুও। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি— বৃষ্টির দিনেই কেন খিচুড়ি খাওয়া হয়? কোথা থেকে এল এই নিয়ম? চলুন জেনে নেওয়া যাক সে গল্প। 

শোনা যায়, ১২০০-১৮০০ সালের মধ্যবর্তী কোনও এক সময়ে বাংলায় খিচুড়ির আবির্ভাব। মনসামঙ্গল কাব্যে স্বয়ং শিব যে খাবারটির আবদার পার্বতীর কাছে করেছিলেন, তা হল খিচুড়ি। এটিকে ‘গরিবের আমিষ’ বলা হলেও প্রথমদিকে ডাল ছিল উচ্চশ্রেণীর খাদ্য। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে নাকি জনপ্রিয় ছিল এই পদ। 

তবে জনপ্রিয় ধারণা হল, খিচুড়ি খাওয়া শুরু নাকি বাউলদের হাতে। এটি নাকি প্রধানত ছিল তাদের খাবার। এই ছন্নছাড়া মানুষ পথে-ঘাটে গান করতেন, আর দক্ষিণা হিসাবে পেতেন চাল-ডাল। তারা চাল ডাল একত্রে মিলিয়ে খুব দ্রুত ও ঝামেলা বিহীনভাবে রেঁধে ফেলতেন এবং খেতেন। পরে এই খাবারের নাম হয় খিচুড়ি। কিন্তু এটি ছিল তাদের রোজকার খাবার। 

তবে ইতিহাসের নানা পর্যায়ে আলাদা আলাদা করে খিচুড়ির উল্লেখ আছে। যেমন, সেলুকাস উল্লেখ করেছেন, ভারতীয় উপমহাদেশে চাল-ডাল মেশানো পদের কথা। আল বেরুনিও খিচুড়ির প্রসঙ্গ তুলেছেন তার লেখায়। মরক্কোর পর্যটক ইবন বতুতা খিচুড়ি বানানোর ক্ষেত্রে মুগডালের কথাও বলেছেন। চাণক্যের লেখায় চন্দ্রগুপ্তের সময়কালে এর উল্লেখ মেলে। 

মোঘল আমলের আকবরের মন্ত্রী আবুল ফজল তার আইন-ই-আকবরীতে নানা ধরনের খিচুড়ি তৈরির কথা বলেছেন। শোনা যায়, খিচুড়ির প্রতি ভালোবাসা ছিল জাহাঙ্গিরেরও। তাতে পেস্তা ও কিসমিসও নাকি মেশানো হত। আর তার নাম রাখা হয়েছিল ‘লাজিজাঁ’। শোনা যায়, ভিক্টোরিয়ান যুগে খিচুড়ি নাকি ইংল্যান্ডের হেঁসেলেও ঢুকে পড়েছিল। 

বর্ষার দিনে খিচুড়ি খাওয়ার সঙ্গে নাকি রয়েছে অন্য কাহিনি। গ্রামাঞ্চলে বর্ষার সময় চারপাশ জলে ভরে যেত। জল-কাদা পেড়িয়ে দূরের বাজারে যাওয়া ছিল কষ্টকর। বাজার যেহেতু করা সম্ভব হত না, তাই ঘরে থাকা উপাদান দিয়েই, মানে চাল আর ডাল দিয়েই সহজে কিছু রেঁধে ফেলতেন গৃহিণীরা। 

এর উপর বৃষ্টির কারণে উনুনে বার বার আগুন ধরানোও ছিল কষ্টকর। তাই একবার আগুন জ্বালিয়ে চাল-ডালের খিচুড়িই রান্না করতেন তারা। পরে ধীরে ধীরে এই খিচুড়িই হয়ে ওঠে অনেকের পছন্দের খাবার। তার সঙ্গে মেশানো শুরু হয় অন্যান্য জিনিস। তবে এর পিছনে অন্য একটি বৈজ্ঞানিক কারণ আছে বলেও মনে করেন অনেকে। 

খিচুড়ি একটি গুরুপাক খাবার। এই খাবার খেলে হজমের নানা সমস্যা হতে পারে। এর সঙ্গে ভাজাভুজি খেলে তো কথাই নেই! তাই এই খাবার গরমে খাওয়া সমস্যার হতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ঠান্ডা আবহাওয়ায় খিচুড়ি খাওয়ার চল হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। একই কারণে শীতেও এটি খাওয়া হয় বলে মনে করা হয়। 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম