বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে: মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ আগস্ট, ২০২৬, 5:13 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ আগস্ট, ২০২৬, 5:13 PM
বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে: মির্জা ফখরুল
বর্তমান বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। এই বিরোধী দল দুর্ভাগ্যক্রমে তারা আবার সেই আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে এবং হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত এঁরা (বিরোধী দল) ওই ভাষায় কথা বলতেছে। করতে দিব না, চলতে দিব না, শেষ করতে দিব না... হ্যাঁ, এইসব বলতে শুরু করেছে না? টার্ম শেষ করতে দিব না, পারবে না।’
রোববার দুপুরে রংপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান লাভ শেয়ার বিডির অর্থায়নে সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে চা-ঘর হস্তান্তর উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘টার্ম শেষ করতে দেব না, পারবে না—সরকারের হয়েছে তো মাত্র চার-পাঁচ মাস। এই চার-পাঁচ মাসেই অনেক পরিবর্তন হয়েছে। একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলা শুরু হয়েছে। একটা বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা চলছে। কাজটা এত সহজ না, এত তাড়াতাড়ি হয় না।’
তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনে জিতেছি, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছি। আমি পার্লামেন্ট চালাব, দেশ চালাব—সেই ম্যান্ডেট তো আমি পেয়েছি। আমাকে চালাতে দেন। ব্যর্থ হলে তখন বলবেন। তার আগেই রাস্তায় নেমে এসব কথাবার্তা শুরু হয়ে গেছে। আমরা গণতান্ত্রিক ভাষায় কথা বলি। গণতন্ত্রকে তার পথে চলতে দিই।’
দেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় ১৫-১৬ বছরের ভয়াবহ একদলীয় শাসন, ফ্যাসিজম ও স্বৈরাচারের পর একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশকে আবার গড়ে তোলার সুযোগ হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, প্রায় ২০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষকে গুম করা হয়েছিল। জুলাইয়ে প্রায় ৪ হাজার ছাত্র, শিশু ও নারীকে হত্যা করা হয়েছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি দীর্ঘদিন নির্বাসিত ছিলেন। দেশে ফিরে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়ে এসেছেন। দেশে ফেরার দিন তিনি রাজনীতির কথা বলেননি। তিনি বলেছিলেন, ‘I have a plan’ দেশকে বদলে দেওয়ার, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন করার পরিকল্পনা।”
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। খাল খনন করে সেচের পানি দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের সম্মানী এবং দুস্থ খেলোয়াড়দের ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রংপুর ও উত্তরাঞ্চল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমান এই উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মধ্যপাড়া ও বড়পুকুরিয়া খনি আবার চালু করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
রংপুরের মানুষের পিছিয়ে থাকার কারণ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের এই এলাকার মানুষের উদ্যোগ নাই। ঝুঁকি নিতে পারে না। নতুন কিছু করার উদ্যোগও নাই। উদ্যোগ লাগবে, ভবিষ্যৎ চিন্তা লাগবে, সাহস লাগবে। তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।
রংপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা আমরা সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি সরকারে আসবে, তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি। যখন বিএনপি সরকারে আসবে, তখন করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? আপনাদের বাস্তবটা বুঝতে হবে। বাস্তবটা না বুঝলে আপনারা এগোতে পারবেন না।’
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ১৫ বছরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের চেষ্টা করেনি। বাপেক্সকে পঙ্গু করে রেখে দিয়েছিল। সেটাকে আবার চালু করা হয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশ থেকে তেল-গ্যাস আমদানি করতে হয়। এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আমদানি ব্যয় ও জাহাজভাড়া বাড়ায় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার একদিকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, পার্লামেন্ট হয়েছে, কথা বলার সুযোগ আছে। আগে আওয়ামী লীগের আমলে লিখতে পারত না, কথা বলতেও সাহস করত না। এখন যা খুশি লিখছে।’
লাভ শেয়ার বিডির কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিদেশে থাকা প্রবাসীরা নিজেদের আয়ের অংশ দিয়ে দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। ২৫ জনকে চা-ঘর দেওয়া সংখ্যায় ছোট মনে হলেও তাঁদের জীবনে এটি গেম চেঞ্জার হতে পারে।
তিনি বলেন, আপনারা শুধু অন্যের ওপর নির্ভর করে থাকবেন না। নিজেরা শুরু করেন। ছোট ছোট জিনিস থেকে বড় কিছু করার চেষ্টা করেন। আমরা আপনাদের পাশে আছি, সহযোগিতা করতে চাই।
অনুষ্ঠানে লাভ শেয়ার বিডির সভাপতি জাহিদ খান সভাপতিত্ব করেন। এতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মুশফিক ফজল আনসারী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।