ঢাকা ২০ মে, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ বিদ্যুতের দাম বাড়াতে আজ থেকে শুরু গণশুনানি আনসার ও ভিডিপির ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী সোনার দাম আরও কমলো ইবোলা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবে কঙ্গো ফুটবল দল ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই বন্ধুর মৃত্যু মেটার বড় ছাঁটাই শুরু, চাকরি হারাচ্ছেন ৮ হাজার কর্মী রামিসা হত্যাকাণ্ড : স্বামী জাকিরকে নিয়ে ভয়ংকর তথ্য দিলেন স্বপ্না খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন অবরুদ্ধ হরমুজ পার হলো চীনের দুই সুপারট্যাংকার, ছিল ৪০ লাখ ব্যারেল তেল

বিদ্যুতের দাম বাড়াতে আজ থেকে শুরু গণশুনানি

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ মে, ২০২৬,  11:20 AM

news image

বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি কমিয়ে আনতে দাম বাড়ানোর বিকল্প কোনো উপায় না দেখে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো বিদ্যুতের দাম বাড়াতে নিয়ম রক্ষার আবেদন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে। বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ থেকে গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ সকাল ১০টায় খামারবাড়ি কেআইবি (কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ) মিলনায়তনে শুরু হচ্ছে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি। দুই দিনব্যাপী শুনানিতে প্রথমদিনে থাকছে বিদ্যুতের পাইকারি দাম ও সঞ্চালন চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ১.২০ টাকা (১৭ শতাংশ) থেকে ১.৫০ টাকা (২১ শতাংশ) দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের সম্ভাব্য উৎপাদন খরচ পড়বে প্রায় এক লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১২.৯১ টাকার মতো। বিদ্যমান পাইকারি দামে বিক্রিতে আয় হবে ৭৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। এতে করে ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ৬৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। ইউনিটপ্রতি ১.২০ টাকা (১৭ শতাংশ) বৃদ্ধি হলে ঘাটতি কমবে ১ হাজার ৩২৯ কোটি আর ১.৫০ টাকা (২১ শতাংশ) হারে দাম বাড়লে ঘটতি কমবে ১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। ওই আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ৬.৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭.০৪ টাকা করা হয়। যদিও কোম্পানি ভিত্তিক বিক্রির পার্থক্যের কারণে গড় বিক্রি মূল্য ৬.৯৯ টাকা দাঁড়িয়েছে বলে দাবি বিপিডিবির। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ ছিল ২.১৩ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩.১৬ টাকা আর ২০২২ সালে সাড়ে ৮ টাকার মতো, এখন গড় উৎপাদন খরচ ১৩ টাকার কাছাকাছি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়। তবে সংশ্লিষ্টরা নানা রকম দুর্নীতি অনিয়ম, অসম চুক্তি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে আসছেন। বিদ্যুতের একমাত্র সঞ্চালন কোম্পানি পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি), প্রতি ইউনিটে যথাক্রমে ৩০ ও ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ ও ৪৯ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে। বিদ্যুতের বিদ্যমান পাইকারি দরে লোকসান দিচ্ছে বলে দাবি করেছে বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলো। লোকসান ঠেকাতে ঢাকা ইকেট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ৯.৬৭ শতাংশ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ৬.৯৬ শতাংশ ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পনি (ওজোপাডিকো) ১০ শতাংশ, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ৫.৯৩ শতাংশ, অন্যদিকে নর্দার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ইউনিটপ্রতি ৩ পয়সা এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ২৯ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি পাইকারি দাম এবং সঞ্চালন চার্জ বেড়ে সমানহারে দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে কোম্পানিগুলো। ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো) তার প্রস্তাবে বলেছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত পাইকারি দাম ৩৬.৯৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ওই সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র ২৫.০২ শতাংশ। এতে করে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৬২ কোটি, পরবর্তী দুই অর্থবছরে যথাক্রমে ৯৫২ এবং ৫৯৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। লোকসান ঠেকাতে হলে দাম ৯.৬৭ শতাংশ বাড়ানো জরুরি। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) তার প্রস্তাবে বলেছে পাইকারি দাম যে হারে বেড়েছে খুচরা সে হারে বাড়েনি। তাই ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬৪৩ কোটি টাকা, পরের বছর ৩০২ কোটি, এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৩৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। লোকসান সামাল দিতে হলে ৬.৯৬ শতাংশ হারে দাম বাড়ানো প্রয়োজন। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) তার প্রস্তাবে বলেছে, ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট লোকসান দিয়েছে ১৬৯৮ কোটি টাকা। গ্রাহক পর্যায়ে দাম না বাড়লে চলতি অর্থবছরে ২ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা লোকসান হবে। লোকসান ঠেকাতে হলে ৫.৯৩ শতাংশ হারে দাম বাড়ানো প্রয়োজন। পাইকারি দাম বাড়লে ৫.৯৩ শতাংশের সঙ্গে সেই পরিমাণও যোগ করার আবেদন করেছে আরইবি। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) তার প্রস্তাবে বলেছে পাইকারি দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খুচরা দাম বৃদ্ধি না হওয়ায় বিপিডিবির বিতরণ অঞ্চলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১২ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। লোকসান বন্ধ করতে হলে প্রতি ইউনিটে ২৯ পয়সা দাম বাড়ানো দরকার। এ ছাড়া পাইকারি দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেলে সেই পরিমাণও যোগ করার আবেদন করেছে। ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি তার প্রস্তাবে বলেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩১ কোটি লোকসান হয়েছে। লোকসান ঠেকাতে হলে ১০ শতাংশ হারে দাম বাড়াতে হবে। সবচেয়ে কম ঘাটতি দেখিয়েছে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো)। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের শহরাঞ্চলে বিতরণের দায়িত্বে থাকা কোম্পানিটি ইউনিটপ্রতি ৩ পয়সা ঘাটতিতে রয়েছে। পাইকারি দাম নতুন করে ২০ শতাংশ বাড়লে, খুচরা দাম ২২ শতাংশ বাড়ানোর আবেদন করেছে। দেশের ৫০টি গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১২ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াট। যা মোট উৎপাদন ক্ষমতার ৪৩ শতাংশ। ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক ৫৪ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১৯ শতাংশ (৫৬৩৪ মেগাওয়াট), ডিজেল চালিত ৫ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষমতা ৩ শতাংশ, কয়লা চালিত ৮ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২২ শতাংশ (৬১৯৩ মেগাওয়াট), ১টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১ শতাংশ (২৩০ মেগাওয়াট) সৌর এবং বায়ু বিদ্যুতের ১৭টি কেন্দ্রের ক্ষমতা ৩ শতাংশ (৮২৯ মেগাওয়াট) এবং আমদানি করা হচ্ছে ৯ শতাংশ (২৬৩৬ মেগাওয়াট)। দ্বিতীয় দিন ২১ মে বিতরণ কোম্পানিগুলোর গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি গ্রহণ করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম