নিজস্ব প্রতিনিধি
১৭ আগস্ট, ২০২৩, 9:31 PM
বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে টিকটক ভিডিও
-সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়
সোহেল রানা: কুমিল্লায় এক বিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে ছাত্রীদের অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে ধারণ করা টিকটক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই ভিডিও দেখে সামাজিক অবক্ষয়ের তীব্র সমালোচনা ও শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সচেতন মহল। বুধবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে। ‘বুঝো নাই ব্যাপারটা’ নামে একটি ফেইজবুক পেইজ থেকে আতিক নামের এক বখাটে ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি পোস্ট করার পর ছড়িয়ে পড়েছে ফেইসবুক দুনিয়ায়। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ডাউনলোড করে ওই বখাটে আতিকসহ সংশ্লষ্টদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করেন নেটিজেনরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন চান্দিনার তীরচর ও মুরাদনগর উপজেলার গোমতা গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ‘গোমতা ইসহাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে’ এই ঘটনাটি ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতি চলাকালিন সময়ে ছাত্রীরা ক্লাস থেকে বারান্দায় বের হয়ে আসলে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে বখাটেরা ছাত্রীদের বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে ভিডিও ধারণ করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোমতা গ্রামের ‘আতিক ডন’ নামের এক বখাটে যুবক তার সঙ্গীয় দলবল নিয়ে টিকটক ভিডিও তৈরি করে। ফেইসবুক পেইজে ‘বুঝো নাই ব্যাপারটা’ নামের একটি ফেসবুক পেইজে সংঘবদ্ধ ওই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ অশালিন ও কুরুচিপূর্ণ টিকটক ভিডিও তৈরি করে আসছে। ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায়, বখাটেরা বিদ্যালয়ের আশেপাশে ঘুরে বেড়ায় এবং মেয়েদের উত্যক্ত করে। তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পায় না। এদিকে, ওই ভিডিও দেখে ‘নাজমূক সাকিব’ নামের এক যুবক এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। এসময় শতশত নেটিজেন ওই যুবকের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করে কমেন্টস করতে দেখা গেছে। ফারুক আহমেদ নামের এক ব্যক্তি মন্তব্যে লিখেছেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে দেখছি, এই ছেলেটা টিকটক নাম দিয়ে অশালীন কথা বলেছে, প্রশাসন যেন তাকে সহ তার পুরো টিম এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে’। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুন্সি সাইফ আহম্মদ জানান, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনাটি শুনেছি এবং ভিডিও দেখে বিদ্যালয়ের সভাপতিকে বিষয়টি অবহিত করেছি। রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করবো। গোমতা ইসহাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাকির হোসেন মুন্সি’র ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আলাউদ্দীন ভূঞা জনী জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। বখাটেদের সনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান জানান, খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।