নিজস্ব প্রতিনিধি
০৫ অক্টোবর, ২০২৫, 11:04 AM
বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেফতার
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এক চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার হেফাজত থেকে দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামরুজ্জামান এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেন এসআই (নিঃ) ইসমিট চাকমা, এসআই মোস্তফা কামাল, এসআই (নিঃ) কাউছার হামিদ, এসআই (নিঃ) নাইমুর রহমান, এএসআই জসিম উদ্দিন, এএসআই শাহ আলম, এবং স্পেশাল-৩৪ (নৈশ) এর এসআই/সোহেল কামাল। অভিযানে আরও সহায়তা করেন কনস্টেবল ৭৮২২ কাউছার, ৭৮২৮ সাখাওয়াত হোসেন, ৭৮৩২ অহিদ হাসান, হাইওয়ে মোবাইল এএসআই সোহেল কামাল, কনস্টেবল ৭৬১৪ জুনায়েদ হোসেন এবং ৭৩১৫ মনির হোসেন সোহেল।
ওসি কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ টিম ৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের সাধারণ ডায়েরি নং ১৭৮ অনুযায়ী নির্ধারিত বিশেষ অভিযান চলাকালে ৪ অক্টোবর রাত ২টা ৫ মিনিটে অক্সিজেন মোড় এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সূত্রে জানতে পারে — অত্র এলাকার কুখ্যাত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বায়েজিদ বোস্তামী থানার মামলা নং ৪৬(০৯)২৫ - এর তদন্তাধীন আসামী মোঃ জাহিদুল হাসান মুরাদ ওরফে নুর ইসলাম (৩২) বর্তমানে হাটহাজারী এলাকায় অবস্থান করছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওসি কামরুজ্জামান অভিযানিক টিমসহ হাটহাজারী থানা পুলিশের সহযোগিতায় হাটহাজারী থানাধীন মজুরী পাড়া ফরিদ মেম্বারের ভাড়াবাসা থেকে উক্ত আসামীকে আটক করেন।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মুরাদ প্রথমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে থাকে। পরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে স্বীকার করে, তার হেফাজতে অস্ত্র ও গুলি রয়েছে এবং সেগুলো বায়েজিদ বোস্তামী থানার মাইজপাড়া জারুয়ার দিঘীর পাড় এলাকায় লুকানো আছে। পরবর্তীতে ভোর ৫টা ১০ মিনিটে পুলিশ আসামীকে সঙ্গে নিয়ে উক্ত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। আসামীর দেখানো মতে ইয়ার মোহাম্মদের মালিকানাধীন একটি পরিত্যক্ত বাড়ির দক্ষিণ - পশ্চিম কোণে ঝোপের ভিতষসসর ইটের স্তূপে লুকানো অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে—একটি কাঠের বাটযুক্ত দেশীয় তৈরি এলজি (বাটের দৈর্ঘ্য ৭.৩ ইঞ্চি, হাতল ৩ ইঞ্চি), নয় (০৯)টি বন্দুকের কার্তুজ, একটি সাদা রঙের ছোট শপিং ব্যাগ।
ওসি কামরুজ্জামান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী জাহিদুল হাসান মুরাদ ওরফে নুর ইসলাম একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় চারটি মামলাসহ চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানায় মোট ১১টি মামলা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বায়েজিদ বোস্তামী থানা সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি জব্দ তালিকাভুক্ত করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।