ঢাকা ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি : মন্ত্রিপরিষদ সচিব গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সবাই এখন মুক্ত: তারেক রহমান তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন আসনে বিজয়ীদের সাক্ষাৎ লক্ষ্মীপুরে ২১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত নাহিদ ইসলামকে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা বাবার পথ ধরে সংসদে যাচ্ছেন যেসব সন্তান নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কবে, জানালেন প্রেস সচিব পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপির আহম্মদ সোহেল মনজুর বিজয়ী জনগণ আর পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে যেতে চায় না : আলী রীয়াজ আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

বাবার পথ ধরে সংসদে যাচ্ছেন যেসব সন্তান

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  2:06 PM

news image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন দলটির দ্বিতীয় প্রজন্মের বেশ কিছু নেতা। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সন্তান হিসেবে পরিচিত এসব নেতা নিজেদের সাংগঠনিক দক্ষতা, মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ে অংশ নেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তারা নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন। দেখে নেয়া যাক, বাবার পথ ধরে সংসদে যাচ্ছেন এমন কিছু সন্তানের পরিচয়।

ব্যারিষ্টার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে মোহাম্মদ নওশাদ জমির

পঞ্চগড়-১ আসনে সাবেক স্পিকার ব্যারিষ্টার জমিরউদ্দিন সরকারের জায়গায় তার ছেলে মোহাম্মদ নওশাদ জমিরকে ধানের শীষ নিয়ে বিএনপি মনোনিত এমপি।  জমিরউদ্দিন সরকার এখনও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তার ছেলে ব্যারিষ্টার নওশাদ জমির বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক। ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে ৮ হাজার ১২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন নওশাদ জমির। নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।

সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

যশোর-৩ (সদর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে। তার বাবাও এই আসন থেকে কয়েকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাবার রাজনীতির হাল ধরেছেন অমিত। 

মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন

ঢাকা-৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়েছেন। ইশরাক হোসেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। ইশরাক হোসেন ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়েছেন। ইশরাক ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে। যিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। খোকা ঢাকার একাধিক আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোট বেশী পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফতে মজলিশ রিকশা প্রতীকের মো. আকরাম আলী ৮৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। শামা ওবায়েদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই আসনকেন্দ্রিক রাজনীতি করে আসছেন। কেএম ওবায়দুর রহমানও এই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচন করে এমপি হয়েছিলেন।

মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ছেলে হেলাল উদ্দীন

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক) আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫৮৯ ভোট। এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। তার পিতা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। 

আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান

চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং) আসনের জয়ী প্রার্থী সাঈদ আল নোমান। প্রথমবার নির্বাচনে নেমে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ৭৭ হাজার ভোট। তরুণ রাজনীতিবিদ সাঈদ আল নোমান স্বল্প সময়ে রাজনীতির ময়দানে চমক দেখিয়েছেন। সাঈদের বাবা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তিনি এই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচন করে এমপি হয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর এই আসনে বিএনপির হাল ধরেন সাঈদ। 

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মরহুম নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি ১ লাখ ১ হাজার ৪৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট। চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতিতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রভাব সব সময়ই ছিল। তিনি প্রায় ৩০ বছর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যকে মানবতাবিরোধী মামলায় ফাঁসি দিয়েছে হাসিনা সরকার। সালাহউদ্দিন এই আসন এবং ফটিকছড়ি থেকেও নির্বাচন করেছেন জীবদ্দশায়। 

সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে নায়াব ইউসুফ 

ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী নায়াব ইউসুফ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও একাধিকবারের মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবদুত তাওয়াব পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট। নায়াব মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এই আসন থেকে কামাল ইবনে ইউসুফ কয়েকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

সাবেক মন্ত্রী এম এ মান্নানের ছেলে মঞ্জুরুল করিম রনি

গাজীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি সাবেক মন্ত্রী ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র প্রয়াদ অধ্যাপক এম এ মান্নানের একমাত্র ছেলে। রনি পেয়েছেন এক লাখ ৮৮ হাজার ৬০৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের এনসিপি মনোনীত শাপলা কলি প্রতীকের আলী নাছের খান পেয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ৯৫০ ভোট।   সূত্র: চ্যানেল২৪.কম

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম