নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ মার্চ, ২০২৬, 10:17 AM
বাজেট অর্থায়ন খুবই চ্যালেঞ্জিং হতে পারে
সরকারের রাজস্ব আদায় তথা সব আয় কমছে। নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগের চেয়ে বেশি টাকা লাগবে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির চাপ ধেয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাড়ছে এমনকি আরো বাড়তে পারে জ্বালানির দাম।
পণ্য জাহাজীকরণের দাম বৃদ্ধিতে বাড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি আর শিল্পের কাঁচামালের দাম। সেই সঙ্গে রয়েছে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের ওপর ধার্যকৃত কর যৌক্তিকীকরণ এমনকি হ্রাসের চাপ। হ্রাস পেতে পারে দাতাগোষ্ঠীর প্রকল্প অনুদান এবং বৈদেশিক সাহায্যও। আমরা এরই মধ্যে দেখেছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য বৃহৎ দেশের প্রভাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এমনকি রোহিঙ্গা পুনর্বাসনসহ দারিদ্র্য বিমোচন খাতে বিদেশি অনুদান কমছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা দেখেছি আর্থিক খাতের সংস্কারের টাকা ব্যয়িত হয়েছে বাজেট অর্থায়নে।
বাজেট আসছে। অনেক দিন পর ক্ষমতায় আসা নতুন সরকারের পক্ষে যেমন একটি ভালো বাজেটের কাঠামো বা ভিত্তি দাঁড় করানোই বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে কিংবা শেষে আমরা হয়তো সময়স্বল্পতার জন্য একটি আটপৌরে বাজেটই পাব। সেই বাজেট প্রণয়ন, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নও খুব কঠিন হয়ে যেতে পারে। বাজেটের অর্থায়ন হতে পারে খুবই দুরূহ।
জুলাই-ডিসেম্বর সময়কালে আমাদের রাজস্ব ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি টাকা, বিদেশি ঋণ না পেলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও চাপে পড়ে যেত। আমদানি এখনো চাপে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি এখনো তুলনীয় দেশের চেয়ে অনেক বেশি। জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটা হুমকির মুখে।
সব দিক বিবেচনায় বাজেট প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনায় যেমন অনেক মুনশিয়ানার প্রমাণ দিতে হবে, যেখানে সম্ভব সেখানেই ব্যয়-নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি দাতাগোষ্ঠীর সঙ্গে লেগে থেকে বাজেট বাস্তবায়নে সুশাসনও নিশ্চিত করতে হবে।
লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক ও চেয়ারম্যান, ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেড। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন