নিজস্ব প্রতিনিধি
১৯ মে, ২০২৬, 10:59 AM
বাঘায় পদ্মার চরে গোলাগুলি, নিহত ১, আহত ১
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালিতে গভীর রাতে গোলাগুলিতে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে স্বপন বেপারী (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন জিয়াউল হক (৩৫)। তবে স্বপন বেপারীর লাশ উদ্ধার করতে পারেনি। তার শরীরে থাকা রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করেছে। স্বপন কালিদাসখালির সিদ্দিক বেপারীর ছেলে। আর আহত জিয়াউল হক নিচপলাসীর শুকুর আলীর ছেলে। জিয়াউল হক পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করে বাড়ি ফিরছিলো। জিয়াউলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সোমবার গভীর রাতে ১০-১২ দুষ্কৃতকারী হামলা চালিয়ে স্বপনকে গুলিতে হত্যা করে। তারাই ট্রলারে করে স্বপনের লাশ নিয়ে গেছে বলে পুলিশের ধারণা। স্বপনের সন্ধানে পুলিশের অভিযান চলছে। স্থানীয় সূত্রে গেছে, সোমবার রাত ১২ টার দিকে কালিদাসখালিতে চরে একদল ডাকাত ট্রলার যোগে আসছিল। স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারী বলেন, রাত বারোটার দিকে দুইটা ট্রলারে ১৫-১৬ জন আসেন। এসময় তারা এলোপাতারি গুলি ছুটতে থাকে। গুলির শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। বাড়ির বাইরে এসে দেখি আমাকে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে। এসময় তারা বাড়ির সামনে আমার ছেলে স্বপনকে ধরে ফেলে। তাকেও গালাগালির একপর্যায়ে গুলি করে তাদের ট্রলারে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। চক রাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের (কালিদাসখালি) সাবেক মেম্বার শহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে বালুরঘাট আছে। বালুরঘাটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় ডাকাত দলের হামলার ঘটনা ঘটে। গতরাতে আসলে কি ঘটনা ঘটেছিল সেটি এখনো ভালোভাবে জানা যায়নি। তবে স্বপন এবং জিয়াউর নামে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। জিয়াউরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে স্বপনকে পাওয়া যাচ্ছে না। স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন- বাবার সামনে গুলিবিদ্ধ আহত স্বপনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিভাবে আছে এ বিষয়ে এখনো কেউ জানে না। ঘটনাস্থলে পুলিশের লোকজন আছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর আহত জিয়াউলকে স্বজনরা নিয়ে গেছে। এটা এলাকার মানুষ দেখেছে। জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, রাত থেকে পুলিশ চরাঞ্চলে অভিযানে আছে। স্বপনের লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।