নিজস্ব প্রতিনিধি
২৯ এপ্রিল, ২০২৬, 10:57 AM
বরগুনায় আইক্যান-আইকার গবেষণার ফলাফল প্রকাশ: শিক্ষার মানোন্নয়নে তরুণদের সফল প্রচারাভিযান
দেশে স্কুল পঠন-পাঠনে উপস্থিতির হার বাড়লেও শিশুদের মৌলিক শিখন দক্ষতায় এখনো বড় ধরণের ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষ করে রিডিং ও গণিতে শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে থাকার বিষয়টি জাতীয় ও বৈশ্বিক গবেষণায় বারবার উঠে আসছে। এই বাস্তবতায় বরগুনায় আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা PAL Network-এর সহায়তায় পরিচালিত ‘আইক্যান-আইকার (ICAN-ICAR)’ গবেষণার ফলাফল স্থানীয় পর্যায়ে উপস্থাপন ও জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে একটি সফল ক্যাম্পেইন সম্পন্ন করেছে Youth for Policy বরগুনা কমিটি।
গবেষণার প্রেক্ষাপট ও মূল লক্ষ্য
গবেষণার তথ্যমতে, পাঠ্যবই পড়ার বোঝার ক্ষমতা এবং প্রয়োগভিত্তিক গণিতে দেশের অনেক শিক্ষার্থী এখনও কাঙ্ক্ষিত স্তরে পৌঁছাতে পারেনি। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা এই শিখন ঘাটতি পূরণে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। সেই বার্তাটিই তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে আইআইডি (IID)-এর সার্বিক সহযোগিতায় বরগুনায় এই প্রচারাভিযান পরিচালিত হয়।
ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম
গত ৩০ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ দিনের এই কার্যক্রমে বরগুনা কমিটির ৮ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। তারা জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে গিয়ে নিম্নোক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন:
উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়।
স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির (SMC) সদস্যদের সাথে বিশেষ আলোচনা।
গবেষণালব্ধ তথ্য উপস্থাপন এবং স্থানীয় বাস্তবতার সাথে তার তুলনা।
গ্রামীণ শিক্ষার চ্যালেঞ্জ: স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণ
ক্যাম্পেইন চলাকালীন স্থানীয় অংশীজনরা গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার মান পিছিয়ে থাকার পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরেন:
১. তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষকদের কাজের সঠিক মনিটরিংয়ের অভাব।
২. আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষক প্রশিক্ষণের অপর্যাপ্ততা।
৩. অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতার অভাব।
"শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার পরিবেশ ও মান উন্নয়ন করতে হলে নিয়মিত মনিটরিং এবং শিক্ষকদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।" — মতবিনিময় সভায় একজন অভিভাবক।
মানোন্নয়নে ৬ দফা সুপারিশ
আলোচনা ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে এসেছে:
অগ্রাধিকার: শ্রেণিকক্ষে মৌলিক শিখন দক্ষতাকে (পড়া ও গণিত) প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া।
বিশেষ যত্ন: পিছিয়ে পড়া বা ‘স্লো লার্নার’ শিক্ষার্থীদের জন্য রেমেডিয়াল ক্লাসের ব্যবস্থা করা।
মূল্যায়ন: নিয়মিত বিরতিতে শিক্ষার্থীদের শেখার মান যাচাই ও মনিটরিং নিশ্চিত করা।
লাইব্রেরি: স্কুল পর্যায়ে পাঠাভ্যাস বাড়াতে লাইব্রেরি সুবিধা বৃদ্ধি করা।
বাজেট: অঞ্চলভিত্তিক চাহিদার ভিত্তিতে শিক্ষা বাজেট বরাদ্দ করা।
প্রশিক্ষণ: শিক্ষকদের জন্য প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে আধুনিক ও ডিজিটাল প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।
Youth for Policy বরগুনা কমিটির এই অরাজনৈতিক ও গবেষণানির্ভর উদ্যোগ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরণের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যহত থাকলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তন আসবে।