ঢাকা ০১ মে, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেফতার করা প্রয়োজন: নাহিদ ইসলাম প্রথমবারের মতো নারী পুলিশ সুপার পাচ্ছে ঢাকা জেলা কবে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় আসছে জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘বিএনপির সময়ে শেয়ারবাজার লুটপাটের সুযোগ ছিল না, এবারও থাকবে না’ অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১২ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি বিরোধী দলের আপত্তির মুখেই দুই বিল পাশ ২৩৮৬৫টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, সংসদে আইনমন্ত্রী ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী

বরগুনায় আইক্যান-আইকার গবেষণার ফলাফল প্রকাশ: শিক্ষার মানোন্নয়নে তরুণদের সফল প্রচারাভিযান

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

২৯ এপ্রিল, ২০২৬,  10:57 AM

news image

দেশে স্কুল পঠন-পাঠনে উপস্থিতির হার বাড়লেও শিশুদের মৌলিক শিখন দক্ষতায় এখনো বড় ধরণের ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষ করে রিডিং ও গণিতে শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে থাকার বিষয়টি জাতীয় ও বৈশ্বিক গবেষণায় বারবার উঠে আসছে। এই বাস্তবতায় বরগুনায় আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা PAL Network-এর সহায়তায় পরিচালিত ‘আইক্যান-আইকার (ICAN-ICAR)’ গবেষণার ফলাফল স্থানীয় পর্যায়ে উপস্থাপন ও জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে একটি সফল ক্যাম্পেইন সম্পন্ন করেছে Youth for Policy বরগুনা কমিটি।

গবেষণার প্রেক্ষাপট ও মূল লক্ষ্য

গবেষণার তথ্যমতে, পাঠ্যবই পড়ার বোঝার ক্ষমতা এবং প্রয়োগভিত্তিক গণিতে দেশের অনেক শিক্ষার্থী এখনও কাঙ্ক্ষিত স্তরে পৌঁছাতে পারেনি। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা এই শিখন ঘাটতি পূরণে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। সেই বার্তাটিই তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে আইআইডি (IID)-এর সার্বিক সহযোগিতায় বরগুনায় এই প্রচারাভিযান পরিচালিত হয়।

ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম

গত ৩০ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ দিনের এই কার্যক্রমে বরগুনা কমিটির ৮ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। তারা জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে গিয়ে নিম্নোক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন:

উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়।

স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির (SMC) সদস্যদের সাথে বিশেষ আলোচনা।

গবেষণালব্ধ তথ্য উপস্থাপন এবং স্থানীয় বাস্তবতার সাথে তার তুলনা।


গ্রামীণ শিক্ষার চ্যালেঞ্জ: স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণ

ক্যাম্পেইন চলাকালীন স্থানীয় অংশীজনরা গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার মান পিছিয়ে থাকার পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরেন:

১. তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষকদের কাজের সঠিক মনিটরিংয়ের অভাব।

২. আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষক প্রশিক্ষণের অপর্যাপ্ততা।

৩. অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতার অভাব।

"শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার পরিবেশ ও মান উন্নয়ন করতে হলে নিয়মিত মনিটরিং এবং শিক্ষকদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।" — মতবিনিময় সভায় একজন অভিভাবক।

মানোন্নয়নে ৬ দফা সুপারিশ

আলোচনা ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে এসেছে:

অগ্রাধিকার: শ্রেণিকক্ষে মৌলিক শিখন দক্ষতাকে (পড়া ও গণিত) প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া।

বিশেষ যত্ন: পিছিয়ে পড়া বা ‘স্লো লার্নার’ শিক্ষার্থীদের জন্য রেমেডিয়াল ক্লাসের ব্যবস্থা করা।

মূল্যায়ন: নিয়মিত বিরতিতে শিক্ষার্থীদের শেখার মান যাচাই ও মনিটরিং নিশ্চিত করা।

লাইব্রেরি: স্কুল পর্যায়ে পাঠাভ্যাস বাড়াতে লাইব্রেরি সুবিধা বৃদ্ধি করা।

বাজেট: অঞ্চলভিত্তিক চাহিদার ভিত্তিতে শিক্ষা বাজেট বরাদ্দ করা।

প্রশিক্ষণ: শিক্ষকদের জন্য প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে আধুনিক ও ডিজিটাল প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।

Youth for Policy বরগুনা কমিটির এই অরাজনৈতিক ও গবেষণানির্ভর উদ্যোগ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরণের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যহত থাকলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তন আসবে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম