ঢাকা ১৩ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন গতি স্কুলছাত্রী অপহরণ মামলায় এনসিপি নেতাসহ গ্রেফতার ২ দেশের বাজারে ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম রেমিট্যান্সে ভর করে ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রিজার্ভ আইএফআইসি ব্যাংকের ঢাকা অঞ্চলের অর্ধ-বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট আরও এক সপ্তাহ চলতে পারে ২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ছে সব মার্কিন সেনা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আবারও লন্ডনে ইলিয়াস কাঞ্চন

পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন গতি

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ আগস্ট, ২০২৬,  11:41 AM

news image

বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নে সরকার সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করাই হবে কমিটির প্রধান দায়িত্ব। প্রয়োজন হলে কমিটি নতুন সদস্যও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা শিগগিরই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন মিললে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নতুন পে স্কেল ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এর আর্থিক প্রভাব। বেতন বাড়ালে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।



তবে সরকার পুরো বিষয়টি স্থগিত না রেখে আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবায়নের উপায় খুঁজছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।


২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারিত হারে বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর পর থেকেই নবম পে স্কেলের দাবি জোরালো হতে থাকে।


এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।


পরে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।


অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। সেই চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা আনা প্রয়োজন হবে।


নতুন পে স্কেল নিয়ে এরই মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বেড়েছে। এখন তাঁদের নজর মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উঠবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর হবে—সেদিকেই। সূত্র : ইত্তেফাক 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম