পেসারদের তোপে বিধ্বস্ত আফগানিস্তান, বড় লিড বাংলাদেশের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
১১ অক্টোবর, ২০২৬, 2:41 PM
ক্রীড়া প্রতিবেদক
১১ অক্টোবর, ২০২৬, 2:41 PM
পেসারদের তোপে বিধ্বস্ত আফগানিস্তান, বড় লিড বাংলাদেশের
হাসানের হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট
তৃতীয় দিনের সকালে নতুন বল হাতে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক, ইবাদত হোসেনও দিলেন যোগ্য সঙ্গ। তাতে গতকালও সমানে সমানে লড়াই করা আফগানদের ইনিংস ভেঙে পড়ল তাসের ঘরের মতো। রহমত শাহ্ একাই লড়ে সেঞ্চুরি করলেও বড় লিড নিয়ে ম্যাচে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেল বাংলাদেশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনে আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পেল টাইগাররা।
দিনের চতুর্থ ওভারে হ্যাটট্রিক করে আফগানদের গুঁড়িয়ে দেয়ার নায়ক হাসান মাহমুদ। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি ইনিংসে পাঁচ উইকেটও তুলে নিয়েছেন তিনি। গত আগস্টে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসে ৯ উইকেট শিকারের পর আবারও ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়লেন তিনি।
একই সঙ্গে হাসান বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে দ্রুততম ৫০ টেস্ট উইকেটও নিলেন। পেসারদের মধ্যে এর আগে ৫০ বা তার বেশি উইকেট নেয়ার কীর্তি আছে মাশরাফি বিন মোর্ত্তোজা (৭৮), শাহদাত হোসেন (৭২) এবং তাসকিন আহমেদের (৫৯)।
এর আগে ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে আফগানিস্তান। দিনের শুরুতেই নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে জ্বলে উঠেছেন হাসান ও ইবাদত হোসেন। ৮২তম ওভারে প্রথম আঘাত হানেন ইবাদত। ভাঙেন মাথা ব্যথার কারণ হয়ে ওঠা রহমত শাহ্- ইকরাম আলীখিলের জুটি।
ইবাদতের অফস্ট্যাম্প চ্যানেলের বল দারুণভাবে ভেতরে ঢুকে ইকরামের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে স্ট্যাম্পে আঘাত করে। ৩২ রান করে বিদায় নেন এই উইকেটকিপার।
পরের গল্পটা হাসানের। ৮৩তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে যথাক্রমে ইসমত আলম, কাইস আহমেদ এবং জিয়া-উর রহমানকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই টাইগার পেসার।
প্রথমে ইসমতকে (১) বোল্ড করেন। পরের দুই বলে যথাক্রমে কাইস লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন এবং জিয়া এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন। সব মিলিয়ে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করলেন হাসান। এর আগে ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন অলক কাপালি। এরপর ২০১৩ সালে ঢাকায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করেন সোহাগ গাজী। তারা দুজনই ছিলেন স্পিনার।
২১৯ থেকে ২২০ এর মধ্যে ৪ উইকেট হারায় আফগানরা। একদিকে উইকেট পড়তে থাকলেও মাথা গরম করেনি রহমত। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। অধিনায়কত্বের অভিষেকেই এই কীর্তি গড়লেন তিনি। এটি টেস্টে তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ২১৬ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন রহমত।
এর মাঝে ইয়ামিন আহমদজাইকে আউট করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। আর শেষ ব্যাটার মোহাম্মদ সালেমকে আউট করে ৪ উইকেট পূর্ণ করেন ইবাদত। তিন স্পিনারের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজ বাকি উইকেটটি শিকার করেন।