নিজস্ব প্রতিনিধি
১৭ জুন, ২০২৩, 6:15 PM
পায়রা বন্দরের উচ্ছেদ হওয়া ছ আনী পাড়ার রাখাইনদের সম্মানজনক পুনর্বাসন ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে মতবিনিময় সভা
গোফরান পলাশ, কলাপাড়া: পায়রা বন্দরের উচ্ছেদ হওয়া ছ আনী পাড়ার রাখাইনদের সম্মানজনক পুনর্বাসন ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের বিষয়ে শনিবার বিকেলে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নাগরিক প্রতিনিধি দলের আয়োজনে পটুয়াখালীর কলাপাড়া প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার মোঃ তৌহীদুর রহমান (সিআইপি) মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বাংলাদেশ জাসদ এর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ নাজমুল হক প্রধান, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জাসদ এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, আমরা আসলে সত্যিই লজ্জিত। আমরা দেখেছি কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পাহাড়ের চাকমা জনগোষ্ঠীদের যেভাবে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা হয়েছিল তা এখনো সে জনগোষ্ঠীর মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। এখানেও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ছ আনী পাড়ার মাত্র যে ছয় পরিবার ছিল তাদেরকে উচ্ছেদ করেছে। এটা একেবারেই দুঃখজনক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, আমাদের নৃবিজ্ঞানের ভাষায় ‘আনপিপলিং’ বলে একটা কথা আছে। এর মানে হল একসময় কোনো একটা অঞ্চলে কোনো এক জনগোষ্ঠীর মানুষ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা আর সেখানে নেই। তাদের সাংস্কৃতিক কিছু বিষয় অবশিষ্ট আছে কেবল। এই পটুয়াখালী অঞ্চলে এসে আমরা তার প্রমাণ দেখতে পাই।
তিনি আরও বলেন, এখানে ছ আনী পাড়া নামক একটা গ্রাম ছিল। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদেরকে উচ্ছেদ করেছে। অনেক চেষ্টা ছিল তাদেরকে যেন উচ্ছেদ করা না হয়। কিন্তু তারা নিজেদের বাস্তুভিটা ছেড়েছে সম্মানজনক পুনর্বাসনের শর্তে। কিন্তু বিশ মাস পরও তাদেরকে সম্মানজনক পুনর্বাসন করা হয় নি।
ছ আনী পাড়ার উচ্ছেদ হওয়াদের মধ্যে সিং দা মো রাখাইন বলেন, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে বলেছিল সম্মানজনক পুনর্বাসন করবে। ছয় মাস বাসা ভাড়া দিয়ে তারা আর কোনো ধরণের খরচ দেয়নি। আমরা চাই আমাদেরকে সম্মানজনক পুনর্বাসন করা হোক। আমাদেরকে এমন রাখাইন পাড়ায় পুনর্বাসন করা হোক যেখানকার শশ্মান, বৌদ্ধ মন্দির ও পুকুর আমরা ব্যবহার করতে পারি।
নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, রাষ্ট্র কতটা অমাণবিক হতে পারে আমরা তা দেখলাম। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ছ আনী পাড়ার রাখাইনদের উচ্ছেদ না করেও স্থাপনা করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে রাখাইন আদিবাসীদের উচ্ছেদ করছেন। আমরা অনেকটা মেজোরেটারিয়ান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশটাকে এগিয়ে নিচ্ছি। আমরা বহুত্বকে গ্রহন করছি না, সংবিধানকে মানছি না।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রকাশ বিশ্বাস, সাংবাদিক হারুন-অর রশীদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের বরিশাল অঞ্চলের সভাপতি মং চোথিন তালুকদার, ছ-আনী পাড়ার উচ্ছেদের শিকার ও শিক্ষানবিস নারী আইনজীবি লাখাইন রাখাইন প্রমূখ।