নিজস্ব প্রতিনিধি
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, 1:01 PM
নিখোঁজের ২৬ দিন পর লাশ মিললো কবরস্থানে
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পড়তে গিয়ে নিখোঁজের ২৬ দিন পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিশু আবু হুরায়রারের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তালতলা গ্রামের কবরস্থানের একটি কবরের ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আটক দু’জনের মধ্যে রাজমিস্ত্রী আব্দুল মোমিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আবু হুরায়রা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তালতলা গ্রামের ভুট্টা ব্যবসায়ী ও কৃষক আব্দুল বারেকের একমাত্র ছেলে।
সে চুয়াডাঙ্গা ভি জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। আবু হুরায়রার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পাশের বাড়ির রঞ্জু হক নামে এক প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পড়তে যায় আবু হুরাইরা। ওই শিক্ষকের ঘরে ব্যাগ রেখে সে বাইরে বের হয়। এরপর থেকে তাকে পাওয়া যায়নি। ওই দিন সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজন খুঁজতে বের হয়। রাতে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এলাকায় মাইকিংও করা হয়। শিশুটির পরিবার আরও জানায়, ধারণা করা হয়, বাড়ির পাশে পুকুরে পড়েছে হয়তো আবু হুরায়রা। সে অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এসে পুকুরে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি করেন। তারপরও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সদর থানায় একটি মামলা করেন শিশুর বাবা। এই মামলায় গ্রেফতার হয় শিক্ষক রঞ্জু ও তার ভাই মঞ্জু। পুলিশ জানায়, নিখোঁজের পর থেকেই অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশ। এই মামলায় গ্রেফতার রঞ্জু ও মঞ্জুকে জিজ্ঞাবাদের পরও তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় একই এলাকার আব্দুল মোমিনসহ দু’জনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ আরও জাসায়, আব্দুল মোমিনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রবিবার রাতে কবরস্থানে অভিযান চালানো হয়। কবরস্থানের ভেতর থেকে শিশুটির অর্ধগলিত হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। আটক রাজমিস্ত্রী আব্দুল মোমিন তালতলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে ও আবু হুরায়রার প্রতিবেশি। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘নিখোঁজের মামলায় গ্রেফতার দু’জনের কাছ থেকে আমরা কোনও তথ্য পাইনি। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তৎপর চালিয়ে আব্দুল মোমিনসহ দু’জনকে আটক করি। পরে আব্দুল মোমিনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কবরস্থানের মধ্যে একটি কবর থেকে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।’