ঢাকা ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণের পর আগুন, নিহত ৭ হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি বেকারত্ব কমাতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় জোর দেওয়ার তাগিদ রাষ্ট্রপতির প্রথম স্ত্রীসহ এমপি নজরুল ইসলাম রিমান্ডে ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক এনসিপির, সন্ধ্যায় মিছিল সরকার বাধ্য হয়েই তেলের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নৌসদস্যের মৃত্যু জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদকে ‘বড় বরাদ্দ’ দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর: মাহদী আমিন স্বাস্থ্যখাতের ওপর সরকারের বড় সাফল্য নির্ভর করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নতুন বছরে সঞ্চয়পত্র নিয়ে সরকারের দুঃসংবাদ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ জানুয়ারি, ২০২৬,  7:13 PM

news image

আরও এক দফায় কমানো হলো সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার। আগামী ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার ঘোষণা করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (ইআরডি)।  বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে এই নতুন মুনাফার হার কার্যকর হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন মুনাফার হার হবে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত জুলাই মাসেও মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। এখন ছয় মাস পর আবারও কমানো হলো। প্রতি ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হয়। দেখা যাচ্ছে, কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কম। এ ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ পরিমাণ বা এর কম হলে মুনাফার হার বেশি হবে। আর ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমে আসবে। আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ করে থাকে সরকার। দেশে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন যত ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্র। এ সঞ্চয়পত্রে এতদিন সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ; এখন তা কমিয়ে করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে এ মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, সেটা কমিয়ে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ করা হয়েছে। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পঞ্চম বছর শেষে, অর্থাৎ মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ; এখন তা করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। অন্যদিকে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ; এখন থেকে তা হবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও কমানো হয়েছে। এ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ; এখন থেকে তা হবে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ; এখন থেকে তা হবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। এছাড়া, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলেও মুনাফা কমবে। এ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ; এখন থেকে তা হবে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ; এখন থেকে তা হবে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এছাড়া, ১ জুলাই ২০২৫ তারিখের আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ইস্যুকালীন মেয়াদে ওই সময়ের মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। তবে, পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুনর্বিনিয়োগের তারিখের মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। ছয় মাস পর মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এদিকে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক মূলত দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। বিপদের সময় সঞ্চয়পত্র ভেঙে তা সামাল দেন এ শ্রেণির গ্রাহকরা। আবার, অনেকের প্রতি মাসের সংসার খরচের একটি অংশও আসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে। জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। গত কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা ৮-৯ শতাংশের ঘরেই আছে। ফলে, সামগ্রিকভাবে নতুন বছরের শুরু থেকে মধ্যবিত্তের ওপর চাপ আরও বাড়ল। বিশেষ করে যাদের পারিবারিক খরচের বড় একটি অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আসে, তারা আরও চাপে পড়বেন।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম