ঢাকা ১৮ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষিতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময় জানালেন অর্থমন্ত্রী হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু সেজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু বন্দনার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসেছে সরকার: প্রেস সচিব ভারতে ভূত আতঙ্কে হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী সরকারের ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ড শেষ করেছি: শিক্ষামন্ত্রী আমড়া দিয়ে বানিয়ে ফেলুন মুখরোচক টক-ঝাল ডাল সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া চার্জ দিলে অটোরিকশার নিবন্ধন নয়, থাকছে জরিমানাও হাসিনা কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর

নওগাঁয় ঈদুল ফিতর কে সামনে রেখে জমে উঠেছে গরু-ছাগলের হাট

#

২৬ এপ্রিল, ২০২২,  2:56 PM

news image

*সরকারের নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত  খাজনা আদায় করছে হাট ইজারাদার 

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর নিয়ামতপুর সহ বিভিন্ন উপজেলা গুলোতে ঈদুল ফিতর কে সামনে রেখে জমে উঠেছে গরু-ছাগলের হাট ক্রেতা বিক্রেতাদের মাঝে উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো। এ বছর গরুছাগলের দাম গত বছরের তুলনায় ভালো থাকার জন্য বিক্রেতাদের মাঝে আনন্দ থাকলেও হাট ইজারাদারের উপর নানা অভিযোগ তুলছেন সাধারণ মানুষ সহ ক্রেতা বিক্রেতারা ও ব্যাবসায়ীরা। কারণ  নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করে চলেছে ছাতড়া গরুহাট ইজারাদার প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের  নিজস্ব কিছু  বাহিনীর দ্বারা আরও বাড়তি  টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্রেতা-বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে নিয়ামতপুর উপজেলা ২ নং চন্দননগর ইউনিয়নের ছাতড়া নামক বাজারের গরুচাগলের হাট নওগাঁ জেলার সকল বৃহত্তর হাট গুলোর মধ্যে এটি উন্নতম। এই হাট স্থানীয় চেয়ারম্যান বদিউজ্জামা বদি ক্ষমতায় আসার পরে অনেক উন্নয়ন এবং সংস্কার করছেন এখন হাটে আর আগের মত হাঁটুপর্যন্ত পানিও থাকেনা উন্নতমানের শীডের উপর খুব মনোরম পরিবেশে গরু ছাগল কেনা বেচাঁ করতে পারে সবাই । এখানে রাজধানী সহ দেশের সর্বত্র অঞ্চল থেকে ক্রেতা বিক্রেতা এবং গরু ব্যবসাীদের আগমন ঘটে এবং বিভিন্ন জায়গায় গরু ছাগল রপ্তানি করে থাকে। গত দু’সপ্তাহে ছাতড়া হাটে প্রায় ১ হাজার গরু ও ১ হাজার ৫০০ ছাগল বিক্রি হয়েছে। যা থেকে বাড়তি প্রায় ৮ লক্ষ টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছাতড়া হাটের প্রবেশ দ্বারে কিছু লোক খাতা কলম নিয়ে বসে বিক্রি হওয়া গরু ছাগলের ছাড় লিখার কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে থেকে একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে  প্রতিবেদককে বলেন, ক্রয়কৃত গরুর ৬৫০ টাকা দরে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। যা সরকার নির্ধারিত খাজনার চেয়ে ১৫০ টাকা বেশি। তিনি আরও বলেন,  এই অনিয়ম দেখার কেউ নেই, আমরা এই অনিয়ম কেউ রোধ করতে পারবেনা কারণ এখানে সকল দপ্তর কে ম্যানেজ করেই হাট পরিচালনা এবং অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হয় এবং  সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি টাকা নেওয়ায় গরুর ছাড়পত্রে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয় না।ইজারদারের একজন ছাড় লেখক  মহুরি কে এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, খাজনা আদায় অতিরিক্ত না করলে আমাদের কোন লাভ হয় না কারণ খুব চড়া দামে হাট লিজ নিয়েছি তাছাড়া  ঈদে লঘনে পূজা পর্বতে সকল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে এমন কি উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠন থেকে শুরু করে ছেলে পেলে এবং সাংবাদিক দের ম্যানেজ করতে হয়। আমরা এই বাড়তি টাকা কোথায় পাবো? এখান থেকে আমাদের সিস্টেম করতে হয় । আবার এই মাসোয়ারা না দিলে পরে বিভিন্ন  ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের।   হাটে গরু কিনতে আসা মহাদেবপুর উপজেলার  কাঞ্চন  গ্রামের মন্টু নামের এক ব্যাক্তি বলেন, গরুর দাম নিয়ে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু গরুর খাজনা নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছে। গরু প্রতি ১৫০ টাকা বেশি নিচ্ছে। যা সরকারি নির্ধারিত মূল্যর ফি থেকে অনেক বেশি  মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে  প্রশাসনের  দৃষ্টি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ  হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানন তিনি। উপজেলা সূত্র জানায়, গত ১৪২৮ বাংলা খ্রিস্টাব্দে ছাতড়া ডাক ছিল প্রায় ৫ কোটি টাকা। ১৪২৯ বাংলা খ্রিস্টাব্দে সে ডাক কোটি টাকা কমে প্রায় ৪ কোটি টাকায় মালেকা খাতুন নামে এক ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ডেকে নেয়।  অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়ে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের আরও একজন প্রতিনিধি বলেন, হাটের ডাক তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বাড়তি টাকা আদায় করতে হচ্ছে। খাজনা আদায় বইয়ে টাকার পরিমাণ উল্লেখ নেই কেন প্রশ্ন করলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। বিষয়টি নিয়ে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন এর সহিত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাড়তি খাজনা আদায়ের বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম