ঢাকা ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাম ও উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু এইচএসসির ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর আইনজীবী তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে কখনও পিছপা হয়নি যুবদল: রিজভী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মবের শিকার হবেন না: তথ্য উপদেষ্টা ঢাকা-চট্টগ্রামের একাংশ হঠাৎ বিদ্যুৎহীন

ধর্ষণে ১১ বছরের মাদরাসা ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, ‘সত্য বলায়’ ডাক্তারকে হত্যার হুমকি

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

০৭ মে, ২০২৬,  4:57 PM

news image

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক মাদরাসা ছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করায় এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​পারিবারিক বিচ্ছেদের কারণে ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানীর কাছে থেকে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত সরকারি চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে, ১১ বছরের ওই শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

​ঘটনার ভয়াবহতা দেখে ডা. সায়মা আক্তার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, সত্য প্রকাশের পর থেকে তাকে অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, সাইবার বুলিং এবং এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ডা. সায়মার স্বামী মো. আসিফুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমে কথা বলার পর হুমকির মাত্রা আরও বেড়েছে। এমনকি পেশাগত ক্ষতির ভয়ও দেখানো হচ্ছে তাদের। বর্তমানে এই চিকিৎসক দম্পতি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

​অভিযোগ উঠেছে, ওই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আমান উল্লাহ সাগর শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত পক্ষ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে চিকিৎসকের দৃঢ় অবস্থানের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

​ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর আত্মগোপনে চলে গেলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

​পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, চিকিৎসকের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও মানবাধিকার কর্মীরা।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম