নিজস্ব প্রতিনিধি
০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 1:42 PM
দুইপক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে স্কুলছাত্র নিহত
নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। আহতদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। বাকিদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, উপজেলা চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় দুটি পক্ষে মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে একাধিক সংঘর্ষে উভয় পক্ষে নারীসহ ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এবং বাড়িতে হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটে। এলাকার একটি পক্ষর নেতৃত্বে আছেন হানিফ মাস্টার, অন্যটির নেতৃত্ব আছেন এরশাদ মিয়া।
ওই ঘটনার জেরে আজ বুধবার সকাল ৬টায় এরশাদ অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় হানিফ মাস্টারের অনুসারীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থী মুস্তাকিম ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আগুনে ৪টি ঘর পুড়ে যায়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তবে আহতরা পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে গোপনে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে জানান পুলিশ। নিহতের মা শাহানা বেগম জানান, সকালে আমার ছেলে মুস্তাকিম ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ি আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চাইনা গুলি করে তাকে হত্যা করে। আমরা নিরপেক্ষ, কোন দলের নয়।
যারা আমার বুক যারা খালি করেছে জড়িতদের বিচার দাবি জানাই। রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বিমল চন্দ্র ধর বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিম নামে একজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুলিটি ছিদ্র হয়ে বেরিয়ে গেছে। পরে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।