আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬, 10:52 AM
তেল আটকে বিপদে ইরান, যে কোনো মুহূর্তে বড় বিস্ফোরণ: দাবি ট্রাম্পের
নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল খাতে চাপ বাড়তে বাড়তে এখন বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তিন দিনের মধ্যেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রবিবার ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, অবরোধের ফলে ইরান তার তেল জাহাজে তুলতে পারছে না। এতে পাইপলাইনের ভেতরে তেল জমে যান্ত্রিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এই চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বিস্ফোরণ ঘটলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা ইরানের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সংরক্ষণ সক্ষমতা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় ইরানকে শিগগিরই তেলক্ষেত্র বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটি স্থলভাগের ট্যাংকে তেল জমা করছে, তবে এসব ট্যাংকের ধারণক্ষমতা সীমিত। বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্ট এবং এনার্জি অ্যাসপেক্ট জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এসব সংরক্ষণাগার পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। একবার ট্যাংক পূর্ণ হয়ে গেলে উৎপাদন বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না। এতে দীর্ঘমেয়াদে তেলক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হলে মজুত ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয় এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু করলেও আগের সক্ষমতায় ফিরতে সময় লাগে। এর প্রভাব শুধু ইরানের অর্থনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। তারা আরও বলেন, স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে ইরান সমুদ্রবন্দরে তেলবাহী জাহাজ ব্যবহার করে ভাসমান সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। সূত্রঃ এএফপি, ফক্স নিউজ