নিজস্ব প্রতিনিধি
০১ অক্টোবর, ২০২৩, 9:37 PM
তিতাসে ব্যবসায়ী কর্মচারীর উপর হামলা
কুমিল্লার তিতাসে দাবি করা চাঁদার টাকা না পাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী-কর্মচারীর উপর হামলা চালিয়েছে একদল চাঁদাবাজ এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমপুরে। এসময় চাঁদাবাজরা ব্যবসায়ী মুকবুলের ১০-১৫টি পাইপ ভেঙ্গে ফেলে। এছাড়াও কিছু পাইপ লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। কর্মচারী শরীফ বাঁধা প্রদান করায় তার উপর হামলা চালায়। মাছিমপুর গ্রামের মনির হোসেন ওরফে মাস্টারের ছেলে কালামের নেতৃত্বে এই হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে জানান আহত শরীফ। তারা লাটিসোটা দিয়ে এলোপাথাড়ি আক্রমণ করতে থাকে শরীফের উপর। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় শরীফকে দেবিদ্বার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন মুকুল অভিযোগ করে বলেন, মাছিমপুর গ্রামের কালাম একজন চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী।
সে বিভিন্ন সময় মানুষের উপর হামলা করে চাঁদা দাবি করে। তার বিরুদ্ধে তিতাসে কতগুলো অভিযোগ ও মামলা আছে তা দেখলেই বুঝা যাবে সে কত ভালো মানুষ! আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর সে হামলা করেছে। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। প্রশাসনের কাছে আমি সহযোগিতা কামনা করি। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন যাবত কালাম কলাকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদা আদায়, মাদক ব্যবসা, সাধারণ মানুষদের হয়রানিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। কিছুদিন আগে কালাম বাহিনী স্থানীয় মহিলা মেম্বার চম্পার পা ভেঙ্গে দিয়েছে। এই বিষয়ে চম্পা মেম্বার বলেন, আমার প্রতিবেশি আত্মীয় হাবিজ মিয়ার ছেলে ফারুকের কাছ থেকে মোবাইল, টাকা পয়সা ছিনতাই করে নিয়ে যায় কালাম গংরা এবং তাকে মেরে হাসপাতালে পাঠায়। ফারুক ১০ দিন তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়। ফারুককে কেন এমন জখম করলো, আমি জিজ্ঞেস করতেই আমার উপর হামলা করে। হকিস্টিকের আঘাতে আমার পা ভেঙ্গে যায়। সে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ।মাছিমপুর বাজারের ব্যবসায়ী হাবিব সরকার,আনিছ সরকারের উপরও সে সন্ত্রাসী হামলা চালায় কয়েক মাস আগে। আহত শরীফ কেঁদে কেঁদে বলেন, আমি গরিব মানুষ, আমি কী দোষ করেছি? আমাকে মেরে কোমড় ভেঙ্গে দিয়েছে মাছিমপুরের কালাম। চারদিন হাসপাতালে ছিলাম। এখনও কোমড়ের ব্যথায় হাঁটতে পারি না। কিন্তু কাজ না করলে আমার পরিবার না খেয়ে থাকবে। তাই অসুস্থ অবস্থায়ও কাজে এসেছি। ঝামেলা থাকলে মালিকের সাথে থাকতে পারে কিন্তু আমি কি দোষ করেছি? কেন আমার উপর এমন নগ্ন হামলা? আমি এর বিচার চাই।তবে সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে কালাম বলেন, একটি মহল রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এমন অভিযোগ করেছে। অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।