NL24 News
২৫ অক্টোবর, ২০২৩, 2:32 PM
চৌহালীতে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের
চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার মাঠে মাঠে সোনালী ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার মাঠ জুড়ে ধান ক্ষেত গুলো যেন সোনালি রঙে সাজতে শুরু করেছে। চলতি আমন মৌসুমে আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ফলে কৃষকদের মনে আনন্দ বিরাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সঠিক পরিচর্যার ফলে আশানুরূপ ফলন হয়েছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বোনা আমন- লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর, রোপা আপন- ৯০ হেঃ ৷ উপজেলায় এবার প্রায় ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উফসী বিভিন্ন জাতের আমনের চাষ হয়েছে বেশি। এধরনের জাতের মধ্যে রয়েছে, ঢেপা, চাষ- ১ হাজার ৪০০ হেঃ, হিজল দিঘা, চাষ- ৬০০ হেঃ, দিঘা, চাষ- ৪০০ হেঃ, ভাওয়ালিয়া, চাষ- ২৫০ হেঃ, সরসরিয়া, চাষ- ৮২৫ হেঃ ও কার্তিঝুল, চাষ - ১২৫ হেঃ জাতের ধান।
অর্জিত হয়েছে- বোনা আমন- ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর ও রোপা আমন - ১৬১ হেঃ যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭১ হেক্টর বেশি ৷সরেজমিনে দেখা যায়, জমিতে আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ৭টি ইউনিয়নে ধান ক্ষেতে গাছের শীষ ধানে নুইয়ে পড়ছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে। অপরদিকে কিছু কিছু নিচু জমির ধানের ফলন একটু দেরি করে শুরু হলেও ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা জানান, এই ধানের রোগবালাই খুব কম। ফলন তাই এই বছরট আশার চেয়ে বেশি হয়েছে। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসের দিকে আমন ধান কাটা হয়। এবার অনেক মাঠেই এক মাস আগেই এই ধান পাকতে শুরু করেছে। সব খরচ বাদ দিয়ে এবার লাভবান হবেন বলে আশা করছেন কৃষকরা। খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান,আবহাওয়াও অনুকূলে থাকায় আমন ধান চাষে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।
এবার মাঝারি ধরনের বর্ষা হওয়ায় আমন ধান ভালো হয়েছে ৷ আবার সাত আট দিন এক নাগারে বৃষ্টি হওয়ায় আরও ভালো হয়েছে ৷খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল খালেক মিয়া বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তিন বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি ৷ ধান ভালো হয়েছে ঠিকমত কাটতে পারলে ভালো ফলন হবে ৷ এই ধান চাষে খরচ কম হওয়ায় ভালো লাভ পাওয়া যায় ৷চৌহালী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাজেদুর রহমান বলেন, আমনের আধুনিক জাত সম্প্রসারণে কাজ করায় কৃষি বিভাগ বাম্পার ফলন আশা করছে। জাতগুলোর মধ্যে ব্রিধান ৭২,৭৫,৮৭ উল্লেখযোগ্য। আমন মৌসুমে কম সময়ে অধিক ফলন হয় এমন জাতের ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য কাজ করা হচ্ছে ৷ সময়ে সময়ে কৃষক প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবসে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে। তারা আধুনিক চাষাবাদে আগ্রহী হবে বলে আশা করছি। বর্তমানে কম খরচে উচ্চ ফলন পাশাপাশি পুষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।