নিজস্ব প্রতিনিধি
১০ মার্চ, ২০২৬, 3:05 PM
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতা মারা গেছেন। আহত ওই জামায়াত নেতার নাম হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান। তিনি বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার কাকরাইলের অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জীবননগর পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দার। তিনি জানান, সোমবার থেকেই মফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি ঢাকায় পৌঁছানোর পর মরদেহ নিজ এলাকায় নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগের সঙ্গে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদী হাসানের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ মীমাংসার জন্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হাসাদাহ বাজারে দুই পক্ষের বসার কথা ছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মফিজুর রহমান, তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান, খায়রুল ইসলাম ও সোহাগ আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় মফিজুর ও হাফিজুরকে প্রথমে যশোর এবং পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়। আর মঙ্গলবার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন মফিজুর রহমান। অন্যদিকে সংঘর্ষে বিএনপির তিনজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- সদ্য বহিষ্কৃত হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৪০), তার বাবা জসিম উদ্দিন (৬৫) এবং বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০)। এ ঘটনায় নিহত হাফিজুর রহমানের ভাই বাদী হয়ে জীবননগর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।