ঢাকা ১৭ মে, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
হাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু ২৩২ রানে অলআউট পাকিস্তান, বাংলাদেশের লিড ৪৬ ভিসি ইস্যুতে ডুয়েট রণক্ষেত্র, আহত ১৫ ড. ইউনূস ও তার উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট সৌদি পৌঁছেছেন ৫৯ হাজারের বেশি হজযাত্রী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর! জঙ্গল সলিমপুরে নির্মাণ হবে দেশের অত্যাধুনিক কারাগার ঢাকায় ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড, বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা শীর্ষ ১০ ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হটস্পট ৩০ উপজেলায় কমেছে হাম সংক্রমণ

চাঁদপুরে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

#

০৯ মার্চ, ২০২৬,  1:45 PM

news image

মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মো. জাকির হোসেন মিয়াজী (৪৫) নামে এক কৃষক পিতাকে বখাটেরা পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে। বখাটে যুবকদের হামলায় আহত হয়ে জাকির হোসেন মিয়াজী দীর্ঘ ১৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে রোববার (৮ মার্চ) তিনি মারা যান। জাকির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে সহ ৫ সন্তান নিয়ে কৃষিকাজ করে দিনাতিপাত করতেন। স্থানীয়রা জানান, জাকির হোসেনের দ্বিতীয় মেয়ে সাকিবা আক্তার (১৫) নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া আসার পথে কয়েকজন যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করত।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নাছির হোসেন মিয়াজির ছেলে ফাইম মিয়াজী (২৪), আইনুল কবির ফটিকের ছেলে মো. সাফিন (২৩), নওদোনা গ্রামের মিজান বেপারীর ছেলে রিফাত বেপারী ও মহসিন শিকদারের ছেলে রিয়াদ শিকদার সহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন বখাটে। এ ঘটনায় জাকির হোসেন মিয়াজি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজারে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় জাকির হোসেনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।  টানা ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে চাঁদপুর আদালতে জাকির মিয়াজির ছোট ভাই হোসেন মিয়াজি মামলা দায়ের করেন। নিহতের মেয়ে সাকিবা আক্তার বলেন, আমি স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রায়ই কয়েকজন ছেলে আমাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি আমার বাবাকে জানালে তিনি স্কুলে অভিযোগ করেন। এর জের ধরেই তারা আমার বাবাকে মারধর করে। বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমার বাবাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে হত্যা করেছে বখাটেরা। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী একজন কৃষক মানুষ ছিলেন। মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমার ছোট ছোট বাচ্চা আছে, এখন তাদের নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচবো? আমি আমার স্বামী হত্যার সঠিক বিচার চাই। এ বিষয়ে নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল্ল্যা বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাকে কেউ এ বিষয়ে অবহিত করেনি। এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, আহত অবস্থায় জাকির হোসেন মিয়াজীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালানো হবে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম