ঢাকা ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
মিরপুর-১০ নম্বরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ১০ দিন পর শিথিল হচ্ছে সাজেকের অবরোধ, কার্যকর হবে আগামীকাল ঢাকায় কমে যাচ্ছে বাসের রুট, ৯৮ থেকে হচ্ছে ৩২ চার দশক পর ফিরছে ‘গ্রাম সরকার’, কাজ করবে যেভাবে শতভাগ ফেল করা কলেজ নিয়ে পরিকল্পনা কী, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসিতে দুই বিষয় পর্যন্ত অকৃতকার্যদের পরীক্ষা ১ মাসের মধ্যে: মাহদী আমিন এইচএসসিতে সবচেয়ে বেশি ফেল ইংরেজি ও আইসিটিতে অনিবার্য বিপ্লবের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে: বিরোধীদলীয় নেতা পাসের হার কমলো ৬.৭১ শতাংশ কাল থেকে এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন, কীভাবে করবেন

চলতি অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ার আভাস

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩১ অক্টোবর, ২০২৬,  11:23 AM

news image

ভারতের চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ মূল্যায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। আগের পূর্বাভাসে এই হার ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। তবে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়লেও মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ভারতের অর্থবছর শুরু হয় ১ এপ্রিল এবং শেষ হয় পরের বছরের ৩১ মার্চ। সেই হিসাবে দেশটির ২০২৬-২৭ অর্থবছর চলবে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস যেখানে প্রায় ৩ শতাংশ, সেখানে ভারতের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রেখেছে শক্ত অবস্থান।


অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে গতি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে, গত প্রান্তিকে ভারতের অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে গতি বেড়েছে। এসব সূচকের মধ্যে রয়েছে জ্বালানির ব্যবহার, বন্দরের পণ্য পরিবহন, পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) আদায় এবং গাড়ি বিক্রি। এসব সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম

প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়লেও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং আবহাওয়াসংক্রান্ত ঝুঁকি ভারতের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে।


মন্ত্রণালয়ের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানির দাম রুপির বিনিময়মূল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে এসব পরিস্থিতি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।


২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের ভোক্তা মূল্যসূচকভিত্তিক মূল্যস্ফীতি (সিপিআই) আগের বছরের একই মাসের তুলনায় বেড়ে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ হয়েছে। পাইকারি মূল্যসূচকভিত্তিক মূল্যস্ফীতি (ডব্লিউপিআই) বেড়েছে আরও বেশি, ১১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।


খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি গ্রামাঞ্চলে ৮ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এ খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ২৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।


জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ পরিবারগুলোর ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় পরিবারগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।


এল নিনোর ঝুঁকিও দেখছে সরকার

মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এই আবহাওয়াপ্রবণতা শীতকালীন ফসলের বপন মৌসুমের আগে মাটির আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খাদ্যপণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।


রুপির দরপতন সামলানোর সক্ষমতা রয়েছে ভারতের

গত পাঁচ বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ধারাবাহিকভাবে দর হারিয়েছে ভারতীয় রুপি। সাম্প্রতিক প্রায় ১৫ মাসে এই পতনের গতি আরও বেড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকায় এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত ভালো অবস্থানে রয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৭২১ বিলিয়ন ডলার। এই রিজার্ভ বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।


সব মিলিয়ে, ভারতের অর্থনীতি চলতি অর্থবছরে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, রুপির দরপতন এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সামাল দেওয়াই দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকছে।

তথ্যসূত্র : ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ), রয়টার্সের তথ্য ও ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অক্টোবরের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম