ঢাকা ০১ নভেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সোমবার থেকেই ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু : শাহে আলম আগামী গ্রীষ্মে সোলার বিদ্যুতে কমবে লোডশেডিং: জ্বালানিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে চলতি বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু অক্টোবরে ডেঙ্গুতে চলতি বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু অক্টোবরে দেশকে এগিয়ে নিতে যুবসমাজের বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি নতুন কাঠামোয় আজ বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, পাবেন না যারা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ ‘ওদের স্পিন ভালোভাবে সামলানো দরকার ছিল, পারিনি’ রাজধানীতে আজ থেকে ৬ রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু

ইরানে ফের হামলা নাকি শান্তিচুক্তি, কোন পথে হাঁটছে ট্রাম্প

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩১ অক্টোবর, ২০২৬,  11:26 AM

news image

আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে, নাকি শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাবে- তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 


একদিকে ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক বিকল্প জানানো হয়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।


বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইরানে নতুন করে হামলার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ট্রাম্পকে অবহিত করেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 


এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করেছে।


একই দিনে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন ভ্যান্স। যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার উদ্দেশ্যে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে আলোচনার জন্য তেহরানে ফিরেছেন।


যুদ্ধের প্রস্তুতি, পাশাপাশি কূটনীতি

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও গোলাবারুদের মজুত বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সামরিক কার্গো বিমান ইসরায়েলের নেগেভ অঞ্চলের ওভদা ও নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। আরও কয়েকটি বিমান জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারে পাঠানো হয়েছে।


এদিকে ভ্যান্সের পাঠানো চিঠিতে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবের পাশাপাশি শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার বিষয়বস্তু করার কথা বলা হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় রবিবার রেজায়ির কাছে চিঠিটি পৌঁছানো হয়।


সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানবিষয়ক গবেষক রুজবেহ পারসি মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে ভ্যান্সই ইরান বিষয়ে তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থানে রয়েছেন। তবে তার মতে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের মতো শক্ত অবস্থান এখনও তৈরি করতে পারেননি ভ্যান্স।


অন্যদিকে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাদের হাশেমি বলেছেন, রেজায়ি ইরানের নীতিনির্ধারণী মহলের একজন মাত্র প্রতিনিধি। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সম্মিলিতভাবেই নেওয়া হয়। তবে অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, বর্তমানে ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি)। তার অনুমান, আইআরজিসির সম্মতি ছাড়া কোনও চুক্তি সম্ভব নয়।


ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, তেহরানের সাতটি শর্ত পূরণ না হলে আলোচনায় অগ্রগতি হবে না। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা।


নির্বাচনের পর বাড়তে পারে হামলার ঝুঁকি

লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, ভ্যান্সের সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব থেকে বোঝা যায়, সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও দ্বিতীয়বার ভাবনার অবকাশ তৈরি হয়েছে। তবে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সংকটের সমাধান সম্ভব- এমন ধারণা বিপজ্জনক বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।


জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার মতে, নতুন দফার হামলা ছাড়া তেহরানের প্রস্তাবিত শর্তে ওয়াশিংটন রাজি হবে না।


পুস্তাইয়ের মতে, ট্রাম্পের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। তাই নির্বাচনের আগে ইরানে বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা কম। তবে নভেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে আইআরজিসিকে দুর্বল করে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে চুক্তিতে বাধ্য করার লক্ষ্যে বড় ধরনের হামলা শুরু হতে পারে।


আলোচনার মধ্যেই হামলার পুরোনো নজির

ইরানের সঙ্গে আলোচনার মধ্যে হামলার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ষষ্ঠ দফার আলোচনার মাত্র দুই দিন আগে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরায়েল। পরে ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রও নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।


চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারিও জেনেভায় আলোচনার দুই দিন পর ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আগের আলোচনাগুলোতে হামলার অভিজ্ঞতার কারণে ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।


ক্রিগের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট এবং নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সময়সীমা নিয়ে মতবিরোধই সমঝোতার প্রধান বাধা।


তার আশঙ্কা, ৩ নভেম্বরের পর যুদ্ধের ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে পারে। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম